স্বাধিকার খর্ব করতেই কি নয়া আইন? বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক বদলি বিল পাশ হতেই তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক বিতর্কিত সংশোধনী বিল পাশ হলো বিধানসভায়। এই নতুন আইন অনুযায়ী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মরত শিক্ষকদের বদলি এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের একচ্ছত্র ক্ষমতা সরকারের হাতে চলে আসায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের কড়া দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে উচ্চশিক্ষার স্বায়ত্তশাসন এবং অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হবে।
আইনের পক্ষে সাফাই দিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সরকারি অর্থ পায়, সেখানে জনস্বার্থে ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলির অচলায়তন ভাঙতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের গলাতেও। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে শাসকপন্থী শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনগুলিও। তাদের যুক্তি, স্বাধিকারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি পিছিয়ে পড়ে, তবে নির্বাচিত সরকারকে সেখান থেকে উদ্ধারের জন্য হস্তক্ষেপ করতেই হবে।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষক সংগঠনগুলি। এবিটিএ (ABUTA) এবং জুটা (JUTA)-র মতো সংগঠনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়োগবিধি ও শর্তকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের কেন্দ্রীভূত বদলি ব্যবস্থা শিক্ষক-সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং গবেষকদের কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে। সর্বভারতীয় ডিএসও-র পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই আইনের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি দলতন্ত্র কায়েম করতে চাইছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার বনাম সরকারি হস্তক্ষেপের এই টানাপোড়েন ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।