কণ্ঠ নয়, এ যেন এক অদ্ভুত জাদু! এই ব্যক্তি যা-ই নকল করেন, সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়, ইনি আসলে কে?

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিপন চ্যাটার্জি এক অদ্ভুত জাদুকরী প্রতিভার অধিকারী। তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকারই নন, একইসঙ্গে একজন দক্ষ হরবোলা। তার কণ্ঠ থেকে কখনও শোনা যায় পাখির কলতান, কখনও খেলার মাঠের ভুভুজেলার গর্জন, আবার কখনও বাদ্যযন্ত্রের নিখুঁত সুর। এই বহুমুখী প্রতিভার জন্যই তিনি আজ শুধু অশোকনগরের নয়, বরং গোটা জেলার গর্ব।

খ্যাতনামা শিল্পীরাও মুগ্ধ তার সুরে
সংগীতই রিপন চ্যাটার্জির জীবনের মূল মন্ত্র। ছোটবেলা থেকেই তিনি গান ও কণ্ঠের জাদুতে এলাকার মানুষকে মুগ্ধ করে আসছেন। তার সুরের দক্ষতা এতটাই যে, বাংলার প্রথম সারির শিল্পীরাও তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন। রূপঙ্কর এবং জোজোর মতো জনপ্রিয় গায়কেরা তার সুরে গান পরিবেশন করেছেন। এমনকি অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীও তার সুরে গান গেয়েছেন।

চলচ্চিত্র জগতেও রিপন তার প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক ছবিতে তিনি সংগীত পরিচালনা করেছেন। প্রয়াত নাট্যকার মনোজ মিত্র এবং অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীও তার সুরে কণ্ঠ মিলিয়েছেন।

একসময় নানা লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা রিপনের মা-ছেলের ছোট্ট সংসারেই প্রতিদিন জন্ম নেয় নতুন নতুন সুর। সেই সুর কখনও হৃদয়কে আবেগে ভরিয়ে তোলে, আবার কখনও বাঁচার শক্তি জোগায়। তার এই প্রতিভা ও সংগ্রাম দেখে অশোকনগরবাসীও তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।