অন্ধকারেই কাটল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের রাত, বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ জনতা, অতঃপর যা ঘটল…!

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের টানটান উত্তেজনা দেখতে না পেয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়ল জনতা। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি মহকুমার সাকোয়াঝোড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকশোভা জ্যোতিষ কলোনি গ্রামে রবিবার রাতে বিদ্যুৎ কর্মীদের রাতভর আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতির কারণেই তাঁরা বহু প্রতীক্ষিত এই ম্যাচটি দেখতে পারেননি।

গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। লো ভোল্টেজ থেকে শুরু করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এক নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই গোটা গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। বহুবার বিদ্যুৎ দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে ওই দিনই ছিল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। খেলা শুরু হতেই টিভিতে খেলা দেখতে না পেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। সারাদিন কেটে রাত হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ ফেরেনি।

অবশেষে রাতের দিকে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা গ্রামে এসে জানান, ট্রান্সফর্মারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং সেটি বদল না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না। কিন্তু রাতের বেলায় কাজ করা সম্ভব নয় বলে কর্মীরা জানালে গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতির কারণে তাঁদের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখা হলো না।

এরপরই গ্রামবাসীরা ওই কর্মীদের রাতভর আটকে রাখেন। তাঁদের গাড়িটিও আটকে রাখা হয়। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি ছিল—রাতের মধ্যেই ট্রান্সফর্মার মেরামত করতে হবে, নয়তো কর্মীদের ছাড়া হবে না। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে না এলে আটক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হবে না।

শেষ পর্যন্ত ভোররাতে ট্রান্সফর্মার মেরামতের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আটক কর্মীরা মুক্তি পান। এই ঘটনা সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।