পাকিস্তান কেন, দেশের সেনাই সবার আগে! এক সৈনিকের কথায় বন্ধ হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের শো

একদিকে কাশ্মীর উপত্যকার পহেলগামে জঙ্গি হামলার ক্ষত, অন্যদিকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের আবেদন। এমন পরিস্থিতিতে যখন ভারত ও পাকিস্তান এশিয়া কাপে মুখোমুখি, তখন হরিয়ানার হিসারের একটি প্রেক্ষাগৃহ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। একটি সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ ভারত-পাক ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে এক সেনাকর্মীর আবেগপূর্ণ অনুরোধ।
ভারত-পাক ম্যাচটি প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি দেখানোর প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময়ে ওই সেনাকর্মী হলের ম্যানেজারের কাছে জানতে চান, এই ম্যাচটি কি সম্প্রচার করা হবে? ওই সেনাকর্মীর কথাগুলো ম্যানেজার করণ যাদবকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি বলেন, “ওই সেনাকর্মী জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা কি সত্যিই ম্যাচটি দেখাব? আমি তাঁকে বললাম, দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। আমার প্রতিশ্রুতি শুনে তিনি খুবই খুশি হন। এরপর আমি ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনা করি এবং তারাও আমার সঙ্গে একমত হন।”
হিসারের ওই প্রেক্ষাগৃহের এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনসমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের জন্য আবেদন করেছেন।
একদিকে যখন সীমান্তে সেনাদের রক্ত ঝরছে, অন্যদিকে তখন একই দেশের সঙ্গে বিনোদনমূলক খেলা কি আদৌ নৈতিক, সেই প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে। হিসারের এই ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিল, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা বিনোদনের চেয়ে দেশের সম্মান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।