‘চাঁদা দিতে দেরি’, রাস্তায় ফেলে মারধর! ভাইরাল ভিডিও দেখে তপসিয়ায় ২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ

পুজোর চাঁদার জুলুমকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় তপসিয়া থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্তদের নাম দীপক দে ওরফে চিনা বাবু এবং রবিন গঞ্জালভেস। ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোবরা উজ্জ্বল সঙ্ঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দিতে দেরি করার কারণে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। অমিত সরকার নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের এই ঘটনার একটি ভিডিও পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেই ভিডিওতে চিনা বাবু ও রবিনকে মারধর করতে দেখা যায়।

অভিযোগ পাওয়ার পরেই তপসিয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে। জানা গেছে, ধৃতরা কলকাতা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ছয়জনের নামে অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

চাঁদার জুলুমের নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?

যদিও এই ঘটনাকে কেবল চাঁদার জুলুম হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এর পেছনে পুরোনো বিবাদ থাকতে পারে। অভিযুক্তদের দাবি, আক্রান্ত অমিত সরকার আগে ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন, কিন্তু তাঁকে সরিয়ে চিনা বাবুকে নতুন সেক্রেটারি করা হয়। অভিযোগ, নতুন করে পোস্টার লাগানোর সময় এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। দু’পক্ষই শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, লিখিতভাবে ৩ হাজার টাকা এবং মৌখিকভাবে ৬ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। এই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় প্রথমে অমিতের ভাইকে গালিগালাজ করা হয়, এবং পরে অমিত নিজে নিচে নেমে এলে তাঁকে বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। অমিতকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ভাই, স্ত্রী এবং বাবাও আক্রান্ত হন। পুলিশ জানিয়েছে, অমিত সরকারের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ উঠেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অমিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।