বেআইনি খাদানে মৃত্যুমিছিল, ৬ শ্রমিকের মৃত্যুর পর অবশেষে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত!

বীরভূমের নলহাটি থানার বাহাদুরপুরে একটি বেআইনি পাথর খাদানে ভয়াবহ ধস নেমে ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। ঘটনার পরপরই খাদান মালিক ভুলু ঘোষ পলাতক ছিলেন, অবশেষে পুলিশ তাকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত শুক্রবার বাহাদুরপুরের এই পাথর খাদানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধস নামে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ পাননি। মুহূর্তের মধ্যে পাথরের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৬ জন শ্রমিক মারা যান। আহত আরও ৪ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই নিশ্চিত হয় যে এই খাদানটি বেআইনিভাবে চলছিল।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের তৎপরতা
ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক রক্তিম ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে খাদানটি বেআইনিভাবে চালানো হচ্ছিল এবং মালিক ভুলু ঘোষ দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক। পুলিশ অবশেষে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, এই খাদানে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মৃত শ্রমিক রথীন দফাদারের আত্মীয় দিব্যেন্দু মণ্ডল এই খাদানটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছেন এবং এর মালিকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ৬ জন শ্রমিকের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, এই বেআইনি কারবারের পেছনে কেবল ভুলু ঘোষই জড়িত, নাকি আরও প্রভাবশালী কেউ রয়েছে।