যৌন হেনস্তার অভিযোগ! ভুলকে ভোলানো যাবে না, প্রাক্তন উপাচার্যের রিজিউমেতে রাখতে হবে সেই রায়, সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, “ভুল যিনি করেছেন তাঁকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু ভুলকে কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।” পশ্চিমবঙ্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগটি সময়সীমার কারণে খারিজ হয়ে গেলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ঘটনার বিবরণ উপাচার্যের রিজিউমেতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে সারাজীবন সেই ভুল তাকে তাড়া করে বেড়ায়।

ঘটনার বিবরণ

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য তাঁকে ব্যক্তিগত ডিনারে যাওয়ার জন্য চাপ দেন এবং নানা অনৈতিক প্রস্তাব দেন। কিন্তু অভিযোগটি নির্ধারিত সময়সীমা (তিন মাস) পেরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অভিযোগ কমিটি তা খারিজ করে দেয়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি পঙ্কজ মিথল এবং প্রসন্ন বি বরালের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানিয়েছে, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অভিযোগকারিণীর ক্ষোভ খতিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও তা বিস্মৃত হওয়ার নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “অভিযুক্তকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর করা কাজ যেন আজীবন তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।” সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই রায়কে অভিযুক্ত উপাচার্যের রিজিউমেতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর ফলে, ভবিষ্যতে তিনি যেখানেই কাজ করতে যাবেন, সেখানেই এই ঘটনা তার কর্মজীবনের অংশ হিসেবে থাকবে।

আদালত রায় পুনর্বিবেচনায় কেন রাজি নয়?

২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এলসিসির সিদ্ধান্ত বাতিল করে অভিযোগটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, তা যৌন হেনস্তার সঙ্গে যুক্ত নয়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টও সময়সীমার বাইরে থাকা অভিযোগটি পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকার করে। তবে একইসঙ্গে অভিযুক্তের প্রতি এই কঠোর বার্তা দিয়ে এটি স্পষ্ট করে দিল যে, অপরাধের আইনগত শাস্তি না হলেও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই।