খেলতে খেলতেই লুটিয়ে পড়ল ১১ বছরের ছাত্রী! কেন বাড়ছে শিশুদের হৃদরোগ?

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার বেটমায় খেলতে খেলতে ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রীর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রীড়া-শিক্ষার সময় মেয়েটি সহপাঠীদের সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎই সে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে বসে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে।
দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, ছাত্রীটির মৃত্যু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হয়েছে।
বাড়ছে কি শিশুদের হার্ট অ্যাটাক?
এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক শিশুর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলি কি শিশুদের মধ্যে হৃদরোগ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামত কী?
মেডিকা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার জানান, শিশুদের মধ্যে হৃদরোগ দ্রুত বাড়ছে, এমনটা সরাসরি বলা যায় না। তবে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই ধরনের ঘটনা এখন অনেক বেশি করে সামনে আসছে।
মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক ইতিহাস?
ডাক্তারবাবু আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সাধারণত পারিবারিক ইতিহাস একটি বড় ভূমিকা পালন করে। যদি পরিবারের কোনো সদস্যের (মা, বাবা, দাদা, ঠাকুমা বা কাকা-মামার) অল্প বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মেও সেই ঝুঁকি থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর হার্টে জন্মগত ত্রুটিও থাকতে পারে, যা আগে ধরা পড়ে না।
চিকিৎসকের পরামর্শ
ডাক্তার দিলীপ কুমারের মতে, এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু এড়াতে একটি শিক্ষা নেওয়া জরুরি। পারিবারিক ইতিহাসে যদি অল্প বয়সে হৃদরোগে মৃত্যুর কোনো ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে শিশু বয়স থেকেই তার হার্টের স্ক্রিনিং করানো উচিত। একমাত্র নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমেই এই ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব।