বিসর্জন হয় না প্রতিমা, নেপালীদের ১০০ বছরের পুরোনো দুর্গা মন্দিরের এই বিশেষত্ব আপনাকে অবাক করবে

দুর্গাপুজো মানেই থিমের লড়াই, নতুন নতুন ভাবনা আর চোখ ধাঁধানো মণ্ডপের রোশনাই। কিন্তু এই আধুনিকতার ভিড়েও কিছু প্রাচীন বাড়ির পুজো তার ঐতিহ্য আর পরম্পরা নিয়ে আজও অমলিন। সেরকমই একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এক পুজোর খোঁজ মিলল বার্নপুরে, যা কার্যত মনকে টেনে নিয়ে যায় ঐতিহ্যের গভীরে। অবাক করা বিষয়, এই মন্দিরে প্রতি বছর নতুন প্রতিমা তৈরি হয় না, আর বিসর্জনও হয় না!
আসানসোলের বার্নপুর ইস্পাত কারখানার জন্য বিখ্যাত। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে এসেছেন। বিহার, ঝাড়খণ্ড, এমনকি সুদূর নেপাল থেকেও এসেছিলেন অনেকে। এই নেপালীরা কাজের কারণে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়লেও, সংস্কৃতির শিকড়কে ভোলেননি। সেই ভালোবাসারই এক অসাধারণ নিদর্শন হয়ে রয়েছে এখানকার এক শতাব্দী প্রাচীন দুর্গামন্দির।
জানা যায়, ১৯২৫ সালে নেপাল থেকে এক ব্যক্তি কর্মসূত্রে বার্নপুরে এসে এই দুর্গা মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই একই মূর্তিতে পুজো হয়ে আসছে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত গোপাল দাহার জানান, “এই নেপালী মন্দিরটি বার্নপুরের এবি টাইপ এলাকায় অবস্থিত। এখানে সারা বছরই পুজো হয়, আর দুর্গাপুজোর সময় তা বিশেষভাবে পালিত হয়। এখানে কোনো প্রতিমা বিসর্জন হয় না, তাই নতুন প্রতিমাও তৈরি হয় না। সেই একই মূর্তিতেই ১০০ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে।”
আগে অনেক নেপালী পরিবার এখানে থাকলেও, বর্তমানে কিছু সংখ্যক পরিবার এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। তবে তাতে পুজোর জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও এই পুজোতে আন্তরিকভাবে যোগ দেন। পুজোর মন্ত্র উচ্চারণ হয় সংস্কৃত ভাষায়, তবে নেপালীদের সুবিধার জন্য তা নেপালী ভাষায় অনুবাদ করেও শোনানো হয়। পুজোর কয়েকটা দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে, বার্নপুরের এই নেপালী দুর্গা মন্দির এখন সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ।