উত্তাল নেপাল, সহিংস বিক্ষোভের জেরে উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত সিল, বিমান পথও ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে

প্রতিবেশী দেশ নেপালে চলা সহিংস বিক্ষোভের কারণে চরম সতর্কতা জারি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। নেপালের পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল যে এর প্রভাব পড়েছে ভারতের সীমান্ত এলাকায়। উত্তরপ্রদেশ সরকার নেপালের সঙ্গে থাকা ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সিল করে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
নেপালে কেন এই পরিস্থিতি?
রবিবার থেকে নেপালে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সোমবারের মধ্যে প্রাণঘাতী রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, নেতাদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং কারাগার ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন। কাঠমান্ডুর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ভারতের সীমান্ত জেলাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা
উত্তরপ্রদেশের সাতটি সীমান্তবর্তী জেলা—বাহরাইচ থেকে লখিমপুর খেরি পর্যন্ত—উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে সীমান্ত ক্রসিংগুলিতে ব্যারিকেড দিয়েছে, যা মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
বাহরাইচ: বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে যমুনাহা চেকপোস্টে হামলা চালালে সেনাবাহিনী দ্বিগুণ ব্যারিকেড তৈরি করতে বাধ্য হয়।
মহারাজগঞ্জ: দাঙ্গাবাজরা কাস্টমস অফিসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং দোকানপাট লুট করেছে।
সিদ্ধার্থনগর: বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতটি সীমান্তবর্তী জেলায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে প্রভাব
সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাণিজ্য: বাহরাইচে পেট্রোলিয়াম পণ্য, এলপিজি সিলিন্ডার, সিমেন্ট এবং খাদ্যশস্য বহনকারী প্রায় ২০০টি ট্রাক আটকে পড়েছে। মহারাজগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন, কারণ নেপালি ক্রেতারাই তাদের প্রধান গ্রাহক।
পরিবহন: উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (UPSRTC) কাঠমান্ডুগামী বাস পরিষেবা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। কাঠমান্ডুগামী বিমানগুলিকেও উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ভারত-নেপাল সীমান্তে উন্মুক্ত যাতায়াতের ঐতিহ্যকে ভেঙে দিয়েছে। শুধুমাত্র বৈধ কাগজপত্রধারী নেপালি নাগরিকদেরই দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।