শহরের ইতিহাসে প্রথমবার! বড়দিনের আলোকসজ্জা বাদ দিয়ে অ্যালেন পার্কে হচ্ছে শারদোৎসব!

বছরের শেষ মানেই পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে আলোর রোশনাই, বড়দিনের উৎসব আর কেক খাওয়ার চেনা আমেজ। কিন্তু এই পরিচিত ছক ভেঙে এবার এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। এতদিন যা শুধুমাত্র ক্রিসমাস ও বর্ষবরণের উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ছিল, এবার সেখানেই হতে চলেছে জমজমাট দুর্গাপুজো। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথমবার অ্যালেন পার্কের চত্বরে শারদোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে তীব্র কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।

কলকাতা সনাতনী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই থিম পুজোয় থাকছে সাবেকিয়ানার এক অপূর্ব ছোঁয়া। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নিখুঁত মেলবন্ধনে গড়ে তোলা হবে এই বিশেষ মণ্ডপ। কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো চেতলা অগ্রণীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত প্রখ্যাত শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই মণ্ডপের এবং প্রতিমা তৈরির প্রধান রূপকার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর ফলে ক্রিসমাসের ক্যারোলের পরিবর্তে পার্ক স্ট্রিটের এই ঐতিহ্যবাহী চত্বরে এখন থেকে শোনা যাবে ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি এবং শঙ্খধ্বনি। আলোকসজ্জার রোশনাইয়ের মাঝেই হবে মা দুর্গার আরাধনা।

তবে এই নতুন উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। অ্যালেন পার্কটি মূলত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ঠিক আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত। অতীতে এই এলাকা থেকেই বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই এখানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বড়দিনের উৎসব পালিত হয়ে এসেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভবানীপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, এই পুজোর আয়োজক ‘কলকাতা সনাতনী সংঘ’-এর সভাপতি পদে রয়েছেন বিশিষ্ট বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা এবং সচিব পদে নবীন মিশ্র। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, অ্যালেন পার্কের এই নতুন শারদোৎসবের সূচনা কি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই হতে চলেছে?

ক্রিসমাসের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক এবার শারদোৎসবের মহোৎসবে মেতে উঠতে পুরোপুরি প্রস্তুত। পার্ক স্ট্রিটের উৎসবের দীর্ঘ ইতিহাস এবং সংস্কৃতির আঙিনায় এই ঘটনা এক নতুন এবং দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায় যোগ করতে চলেছে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সমীকরণের এই অভিনব মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কতটা নজর কাড়তে পারে এবং কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা রাজ্যবাসী।