জন্মাষ্টমীতে পঞ্জাবের সরকারি কর্মীদের ধামাকা উপহার! ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে এল বড় আপডেট

পঞ্জাবের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক বিরাট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট সাব-কমিটির বৈঠকে প্রায় ৮৫ হাজার সরকারি কর্মীর মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ এক ধাক্কায় ৪২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার যুগান্তকারী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই মূলত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পঞ্জাব সরকারের বিশিষ্ট ক্যাবিনেট মন্ত্রী আমন অরোরা গত শুক্রবার এই বিশেষ ঘোষণাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, মূলত ১৭ জুলাই ২০২০ সালের পর থেকে যারা নতুন সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের জন্যই মূলত এই বর্ধিত ডিএ-র সুযোগটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল যে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সপ্তম বেতন কমিশনের পে-ম্যাট্রিক্স অনুযায়ী বেতন পেলেও মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে পঞ্জাব সরকারের নির্ধারিত হার অর্থাৎ ৪২ শতাংশই পেয়ে আসছিলেন। এর ফলে একই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন এবং ডিএ সংক্রান্ত এক ধরনের দীর্ঘদিনের দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি হয়েছিল। এই প্রশাসনিক বৈষম্য সম্পূর্ণরূপে দূর করতেই মূলত নতুন এই সংশোধিত প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। মন্ত্রী আমন অরোরা এই ঘোষণাটিকে পঞ্জাবের সমস্ত পরিশ্রমী কর্মীদের জন্য একপ্রকার ‘জন্মাষ্টমীর উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ছিল যে, ২০২০ সালের জুলাই মাসের আগে এবং পরে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে যে আকাশচুম্বী বেতন ও ভাতার পার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা আর কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।
এই জনমুখী প্রস্তাবটি খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হলে ১৭ জুলাই ২০২০ সালের পর থেকে চাকরিতে যোগদানকারী আনুমানিক প্রায় ৮৫ হাজার কর্মী ৪২ শতাংশের পরিবর্তে সোজা ৬০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা হাতে পাবেন। এর ফলে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য একাধিক অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কর্মীরা আর্থিকভাবে সরাসরি উপকৃত হবেন। পঞ্জাব সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই উল্লেখযোগ্য হারে ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য কোষাগারে বার্ষিক অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকার আর্থিক দায়ভার বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য যে, মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল মূলত একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট সাব-কমিটি। এই বিশেষ কমিটিতে অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আমন অরোরা এবং সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রী বলজিৎ কৌর সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে এই কমিটির সমস্ত সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হওয়ার পথ একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তবে এই স্বস্তিদায়ক খবরের পাশাপাশি পঞ্জাবের সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে এখনও প্রবল অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বকেয়া ডিএ-র কিস্তি এবং বিভিন্ন এরিয়ার অবিলম্বে মেটানোর জোরালো দাবিতে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এখনও সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ ডিএ এবং এরিয়ার বকেয়া পড়ে রয়েছে। রাজ্যের প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়মিতভাবে এই বকেয়া মেটানোর দাবি জানিয়ে আসছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তারা একযোগে ব্যাপক গণছুটির কর্মসূচিও ঘোষণা করে রেখেছেন। এমতাবস্থায়, নতুন করে ৮৫ হাজার কর্মীর ডিএ বৃদ্ধি করার এই সরকারি প্রস্তাবটি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে পঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সমস্ত বকেয়া টাকা একসঙ্গে মিটিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ডিএ-র বকেয়া সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটাতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের পূর্ব নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।