ভয়াবহ সংঘর্ষ! কেরলের ত্রিশূরে দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে ধাক্কা, নিমেষে প্রাণ গেল তামিলনাড়ুর আট ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের

শুক্রবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল কেরলের ত্রিশূর। কাইপামঙ্গলম এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী লরির পেছনে দ্রুত গতিতে ধাক্কা মারে একটি চারচাকা গাড়ি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আট জন ছাত্রের ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয়েছে। ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে তামিলনাড়ু থেকে কেরলে ঘুরতে আসার আনন্দ নিমেষেই এক চরম বিষাদে রূপ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত তখন প্রায় পৌনে বারোটা বাজে। নির্মাণাধীন ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে একটি লরি পার্ক করা ছিল এবং তার ঠিক সামনেই ছিল একটি ডাইভারশন। সেই সময় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে আসা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা পিছন থেকে ধাক্কা মারে ওই লরিতে। সংঘর্ষ এতটাই প্রচণ্ড এবং ভয়াবহ ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে লরির তলায় ঢুকে আটকে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। গাড়িটির ভেতরে আটকে থাকা মৃতদেহগুলি বাইরে বের করে আনতে উদ্ধারকারীদের চরম বেগ পেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত গ্যাস কাটার দিয়ে গাড়ি কেটে দেহগুলি উদ্ধার করতে হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মৃতদের পরিচয়পত্র দেখে জানতে পেরেছে যে তাঁরা তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের পিএসএনএ কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন ছাত্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সালেমের বিশ্ব, দিন্দিগুলের সূর্য ও যুব সঞ্জিত এবং মাদুরাইয়ের সন্তোষ ও প্রসন্ন রয়েছেন। বাকি তিন জন ছাত্রের পরিচয় সনাক্তকরণের কাজ চলছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের জোরালো অভিযোগ, নির্মাণাধীন জাতীয় সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং সঠিক সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডের অনুপস্থিতির কারণেই এই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। পর্যাপ্ত সিগন্যাল ও সাইনবোর্ডের না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকরা রাতের অন্ধকারে চরম বিভ্রান্তির শিকার হন। অতিরিক্ত গতি নাকি রাস্তার বেহাল পরিকাঠামো—কোন কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। কাইপামঙ্গলম থানার পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য মৃতদেহগুলি ত্রিশূর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে এবং নিহতদের শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে এই দুঃখজনক ঘটনার খবর জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হলেই মৃতদেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।