‘ভারত-আমেরিকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু’, ট্রাম্পের বার্তার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বার্তা দিলেন মোদী

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উত্তাপ অবশেষে কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন গতি এসেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ইতিবাচক মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য এক আশাব্যঞ্জক লক্ষণ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রাকৃতিক অংশীদার। আমি নিশ্চিত আমাদের বাণিজ্য আলোচনা দুই দেশের সীমাহীন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।” তিনি আরও জানান, তাদের দল দ্রুততম সময়ে আলোচনাগুলো শেষ করতে কাজ করছে এবং তিনি শীঘ্রই ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছেন।

কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ভারতকে “ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রি” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে “মোদির যুদ্ধ” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে মোদী, শি জিনপিং এবং ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একসাথে হাসিমুখে ছবি তোলার পর ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে ওয়াশিংটন “ভারতকে হারিয়েছে অন্ধকারতম চীনের কাছে”।

কিন্তু এখন সেই সুর একেবারে নরম। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে মোদীকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে একটি সফল সমাধানে পৌঁছাতে কোনো অসুবিধা হবে না।

এই উষ্ণ বার্তার মাঝেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৃষি এবং দুগ্ধ বাজারে আরও প্রবেশাধিকার চাইছে, যা ভারতের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন। এছাড়াও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটনের ৫০% শুল্ক আরোপের মতো বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

তবে দুই নেতার এই বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা থেকে মনে হচ্ছে, এই জটিল বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য দুই দেশই আগ্রহী। ট্রাম্পের এই নরম মনোভাব এবং মোদীর আশাবাদী প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে এবার হয়তো দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথ প্রশস্ত হতে পারে।