বাড়ি থেকে ‘কলেজ যাচ্ছি’ বললেই আর রক্ষা নেই! ফাঁকিবাজ মেয়েদের ধরতে অভিনব কায়দা চালু করল কলেজ

সকালবেলা বই-খাতা বগলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অভিভাবকদের মুখে একটাই কথা শোনা যায়—”কলেজ যাচ্ছি।” কিন্তু আদতে কি তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে কলেজে পৌঁছচ্ছেন এবং ক্লাসে বসছেন? এই সত্য উদঘাটন করতে গিয়েই চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল আলিপুরদুয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়। কলেজের হাজিরার খাতা ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, এমন বহু ছাত্রী রয়েছেন যাঁরা গত এক মাসে অনার্সের একটি ক্লাসেও উপস্থিত হননি। কেউ বা আবার পাঁচ দিনেরও কম ক্লাস করেছেন। অথচ এতদিন ধরে অভিভাবকদের বিশ্বাস ছিল, তাঁদের মেয়েরা নিয়মিত কলেজে ক্লাস করছে!
‘কল দ্য পেরেন্টস’ উদ্যোগ: ছাত্রীদের এই ব্যাপক অনুপস্থিতি এবং ফাঁকিবাজি রুখতে এবার স্কুলের ধাঁচেই কলেজে চালু করা হয়েছে অভিনব উদ্যোগ—’কল দ্য পেরেন্টস’। দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত থাকা বা অত্যন্ত কম হাজিরা থাকা ছাত্রীদের অভিভাবকদের এবার সরাসরি ফোন করতে শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে অভিভাবকদের কলেজে ডেকে পাঠিয়ে মেয়ের উপস্থিতির সম্পূর্ণ হিসাবও ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে খবর, গত ৩ অগস্ট থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে অনার্সের প্রায় ৬৫টি ক্লাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় প্রথম ধাপে এমন ৩০ জন ছাত্রীর অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাঁরা গত এক মাসে পাঁচ দিনও ক্লাসে আসেননি। স্বয়ং কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় নিজে ১৫ জন অভিভাবককে ফোন করেছেন।
অভিভাবকদের চোখ কপালে তোলার মতো অভিজ্ঞতা: কলেজ থেকে ফোন পাওয়ার পরই অনেক অভিভাবক প্রকৃত সত্য জানতে পেরেছেন। দেখা গিয়েছে, যে ছাত্রীরা নিয়মিত কলেজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন, তাঁরা আদতে ক্লাসেই উপস্থিত থাকছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল। কলেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি কোনো সাময়িক কর্মসূচি নয়; বরং সারা বছরই ছাত্রীদের উপস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে। ফলে বাড়ি থেকে ‘কলেজ যাচ্ছি’ বলে বেরোলেই আর নিশ্চিন্ত থাকার দিন যে শেষ, তা বলাই বাহুল্য।