“১৫-র জটে INDIA জোট, কে এই ‘১৫ জন বিভীষণ”-উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল নিয়ে শুরু জল্পনা

দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর থেকেই এক অদ্ভুত রহস্য ঘিরে ধরেছে ‘১৫’ সংখ্যাটিকে। শাসক শিবিরের প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ যেখানে ৪৫২টি ভোট পেয়ে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে বিরোধী জোটের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন মাত্র ৩০০ ভোট। কিন্তু বিরোধী জোটের দাবি ছিল তাদের ৩১৫ জন সাংসদই প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এই ১৫টি ভোটের গড়মিল নিয়েই এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি জোটের ভেতরই ১৫ জন ‘বিভীষণ’ ছিলেন?
শাসক এবং বিরোধী শিবিরের অংক
- শাসক শিবির: এনডিএ (NDA) জোটের দাবি ছিল তাদের প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণ অন্তত ৪৩৭টি ভোট পাবেন। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তাদের নিজস্ব সাংসদ সংখ্যা ৪২৫। এর সঙ্গে যোগ হওয়ার কথা ছিল ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ১১ জন এবং আম আদমি পার্টির ১ জন সাংসদের সমর্থন। কিন্তু ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ৪৫২টি ভোট। অর্থাৎ অনুমিত সংখ্যার চেয়ে ১৫টি ভোট বেশি।
- বিরোধী শিবির: ভোটগ্রহণের পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছিলেন, ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের ৩১৫ জন সাংসদই সুদর্শন রেড্ডিকে ভোট দেবেন। কিন্তু ফল বেরোলে দেখা যায় তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩০০টি ভোট। অর্থাৎ তাদের হিসেবের চেয়ে ১৫টি ভোট কম।
১৫ সংখ্যা নিয়ে জল্পনা
এই ১৫টি ভোটের কম-বেশি হওয়া নিয়েই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। বিরোধীদের হিসেব অনুযায়ী, তাদের ১৫ জন সাংসদ হয়তো ক্রস ভোটিং করেছেন। এই ১৫ জন সাংসদ আসলে কোন দলের, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। তৃণমূলের এক প্রবীণ সাংসদ দাবি করেছেন, তাদের দলের কোনো সাংসদ ক্রস ভোটিং করেননি।
তবে আরেকটি সম্ভাবনাও উঠে আসছে। এই নির্বাচনে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যাও ১৫টি। যদি এই ১৫টি ভোটই বিরোধী সাংসদদের হয়, তাহলে ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা কম। কংগ্রেসের দাবি, অতিরিক্ত ১৫টি ভোটের একটিও তাদের জোটের নয়।
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “এত হইচই এবং বড়াইয়ের পরেও ইন্ডিয়া জোটের প্রার্থী মাত্র ৩০০ ভোট পেলেন, যা তাদের দাবির চেয়েও কম।” এর উত্তরে জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবির পুরোপুরি একজোট ছিল। বিজেপির যে জয়, তা আসলে তাদের নৈতিক এবং রাজনৈতিক পরাজয়।”
এদিকে, তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেছেন যে, তার দলের কোনো ভোট নষ্ট হয়নি এবং সবাই সুদর্শন রেড্ডিকে ভোট দিয়েছেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “১৫টি বাতিল ভোটের সবগুলোই বিরোধীদের, এটা সম্ভব নয়। যদি এর মধ্যে একটিও আমাদের পক্ষে থাকে, তাহলেই প্রমাণ হয়ে যাবে যে ক্রস ভোটিং হয়েছে।”