কুলতলির কলেজে নারী সুরক্ষার পাঠ, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা শিবিরে ভিড়

নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কুলতলী ডক্টর বি আর আম্বেদকর কলেজে একটি বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের মধ্যে আইনি অধিকার এবং আত্মরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।
কেন এই উদ্যোগ?
সুন্দরবনের বেশিরভাগ মানুষ নদী ও জঙ্গলে মাছ এবং মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে, যা আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বাড়ায় এবং দারিদ্র্য ডেকে আনে। এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নারীরা প্রায়ই সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন। তাই তাদের দৈনন্দিন জীবন ও সুস্থ পারিবারিক জীবন নিশ্চিত করতে এই সচেতনতা শিবিরের গুরুত্ব অপরিসীম।
কী শেখানো হলো?
এই শিবিরে মহিলাদের আত্মরক্ষা, আইনি অধিকার এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। এছাড়াও, মা ও শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের মতো দুর্বল অংশের বিশেষ যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ মহিলা সুরক্ষা আধিকারিক লীনা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ কুন্ডু এবং আইন বিশেষজ্ঞ সুজাতা আইন। তাঁরা বলেন, যদিও আন্তর্জাতিক স্তরে নারী অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, তবুও এর বাস্তব প্রয়োগ প্রতিটি দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। তাই সচেতনতা বাড়ানোর এই ধরনের উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।