হঠাৎ পদত্যাগ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর, মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন এই সিদ্ধান্ত

মাত্র এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। সংসদীয় নির্বাচনে পরপর পরাজয় এবং দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রবিবার তিনি এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদত্যাগ জাপানকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরাজয়ের ধাক্কা এবং রাজনৈতিক চাপ
গত জুলাই মাসে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে ইশিবার দল, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এর আগে নিম্নকক্ষের নির্বাচনেও তাদের পরাজয় ঘটেছিল। পরপর এই দুই পরাজয়ের পর থেকেই দলের ডানপন্থী নেতাদের মধ্যে ইশিবার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
দলীয় নেতৃত্ব সোমবার ইশিবার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু তার ঠিক একদিন আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। পদত্যাগের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ইশিবা জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যাতে দলে আর কোনো বিভাজন না থাকে।
মোদির সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক
ইশিবার এই আকস্মিক পদত্যাগের ঠিক কয়েকদিন আগেই ভারত সফর করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৯ আগস্ট জাপানে ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে টোকিও পৌঁছান মোদি। সেখানে ইশিবার আমন্ত্রণেই তিনি জাপান সফরে গিয়েছিলেন। মোদি ও ইশিবা একসঙ্গে ৩০০ কিলোমিটার বুলেট ট্রেনেও সফর করেছিলেন। এই সফরে জাপান আগামী ১০ বছরে ভারতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিল।
পদত্যাগের কারণ ও ভবিষ্যৎ
ইশিবা জানান, দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মূল্যবৃদ্ধি, এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন শুল্ক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক শূন্যতা এড়াতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে দলের নেতারা মনে করেন, পরপর নির্বাচনে পরাজয়ের পরই তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নোরিহিসা তামুরা বলেন, দলের বিভাজন বন্ধ করতে ইশিবার এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
ইশিবার পদত্যাগের পর এলডিপি নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচনের জন্য দ্রুত ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, সানে তাকাইচি এবং ইয়োশিমাসা হায়াশির মতো নেতারা রয়েছেন। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন জাপানের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।