পুজোয় দূষণ রুখতে কড়া রাজ্য, প্রতিমা থেকে ডিজে— সবকিছুর জন্য নতুন নিয়ম জারি

দুর্গাপুজোর সময় পরিবেশ দূষণ রোধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (WBPCB)। পুজো কমিটিগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করার পাশাপাশি, এবার প্রতিটি কমিটিকে একটি লিখিত অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে। এই পত্রে উদ্যোক্তাদের জানাতে হবে যে তারা দূষণ কমাতে পর্ষদের সংশোধিত নিয়মকানুন মেনে চলবে।

অঙ্গীকারপত্রে কী কী থাকবে?
১. পরিবেশবান্ধব প্রতিমা: প্রতিমা তৈরির জন্য প্লাস্টার অফ প্যারিস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবর্তে মাটি ও অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহার বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে, প্রতিমায় পারদ, ক্যাডমিয়াম, সিসা, আর্সেনিক বা ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত ধাতবযুক্ত সিন্থেটিক রং ব্যবহার করা যাবে না। পুজো কমিটিগুলোকে প্রাকৃতিক রং ও জৈব রঞ্জক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

২. প্রতিমার উচ্চতা ও মণ্ডপ: প্রতিমার উচ্চতা সর্বাধিক ২০ ফুট এবং মণ্ডপের উচ্চতা ৪০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্ষদ জানিয়েছে, এতে পরিবেশের ক্ষতি কমার পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকিও কমবে।

৩. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: মণ্ডপে মাইক্রোফোন ব্যবহারের জন্য স্থানীয় থানা বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। খোলা জায়গায় মাইক বাজানোর ক্ষেত্রে ‘সাউন্ড লিমিটার’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। হাসপাতাল ও অন্যান্য সাইলেন্স জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে ব্যবহারের ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

৪. প্লাস্টিক ও থার্মোকল বর্জন: ১০০ মাইক্রনের কম ঘনত্বের প্লাস্টিক, পিভিসি ব্যানার এবং থার্মোকলের সাজসজ্জা ব্যবহার করা যাবে না। বিসর্জনের সময় ফুল, পাতা ও অন্যান্য উপাচার নির্দিষ্ট বিনে ফেলতে হবে। নদী বা পুকুরে সরাসরি কোনো সামগ্রী ফেলা যাবে না।

পর্ষদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পরিবেশ আদালত এবং কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ কার্যকর করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লিখিত অঙ্গীকারপত্র থাকার কারণে নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। এই পদক্ষেপের ফলে দুর্গাপূজার পর জলাশয়ে দূষণ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অঙ্গীকারপত্রটি পর্ষদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা অনলাইনে বা সরাসরি অফিসে গিয়েও তা জমা দিতে পারবেন।