“যা হবে দেখা যাবে’!”-ভিন রাজ্যে রোজগারের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন বাংলার ঢাকিরা, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার খবরে প্রথম দিকে ভয় পেয়েছিলেন বাংলার ঢাকিরা। অনেকে বায়না বাতিলও করেছিলেন। কিন্তু পুজোর মরসুমে উপার্জনের কথা ভেবে সেই ভয় এখন তুচ্ছ হয়ে গেছে। আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু ঢাকি এবার বেশি রোজগারের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।

বালুরঘাটের খিদিরপুরের মালতি নট্টের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। তার ছেলে বাইরে যাবে শুনে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার প্রশ্ন, “সেখানে গিয়ে ছেলে নিরাপদে থাকবে তো?”

তবে অভাবের সংসারে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন ঢাকিরা। বালুরঘাটের বিশ্বজিৎ নট বলেন, “এখানে পুজো উদ্যোক্তারা পাঁচ হাজার টাকার বেশি দিতে চান না। কিন্তু বাইরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা উপার্জন হয়ে যায়। বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থার কথা শুনে একটু ভয় তো করবেই, কিন্তু কী করব?”

আক্ষেপের সুর শোনা গেল ঢাকি সুরজিৎ নটের গলাতেও। তিনি বলেন, “আমরা শিল্পী। ওসব মারধরের ভয় করি না। যেখানে যাচ্ছি সেখানে নিরাপত্তার সমস্যা নেই, তবু কিছুটা আতঙ্কে রয়েছি।”

‘শিল্পীর আবার জাত কী’

আলিপুরদুয়ারের পাটকাপাড়ার প্রয়াত বলরাম হাজরার শিষ্যরা বাংলা, অসম, নাগাল্যান্ড এবং দিল্লি মাতিয়ে রাখেন। বলরামের ভাইপো মধুসূদন হাজরা বলেন, “গুয়াহাটি, দিল্লি, ডিমাপুর থেকে আমাদেরও ডাক এসেছে। আমরা শিল্পী। ওসব মারধরের ভয় করি না।”

রায়গঞ্জ ও মালদার ঢাকিরাও ভিন রাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রায়গঞ্জের শংকর নট্ট বলেন, “২০ বছর ধরে ওই সব জায়গায় যাই। পুজো কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছে, ভয়ের কোনো ব্যাপার নেই।” অর্থের কথা ভেবে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়েছেন মালদার প্রতাপ রবিদাস। তিনি বলেন, “অর্থের কথা ভেবে ঝুঁকিটা নিতেই হচ্ছে। যা হবে দেখা যাবে।”

পুজোর আনন্দে সারা দেশকে মাতিয়ে রাখতে চলেছেন এই ঢাকিরা। তাদের উপার্জন যেমন সংসারের চাকা সচল রাখে, তেমনই তাদের এই যাত্রা তাদের পরিবারের মধ্যে দুশ্চিন্তার জন্ম দিচ্ছে।