দু’টি ছোট সন্তানকে আগলে ধরে স্ত্রীর খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শুভ্রাংশু! শেষ পর্যন্ত কি মিলবে কোনো সন্ধান?

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হড়পা বানের কবলে পড়ে দীর্ঘ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন প্রয়াত প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবারের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে এই মর্মান্তিক বিপদের মুখে পড়েছেন তিনি। বহু দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে। দুই ছোট সন্তানকে বাড়িতে রেখে এই পবিত্র তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা, কিন্তু কে জানত এই সফরই এমন এক বিভীষিকায় পরিণত হবে।

গত ২১ অগস্ট একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার হাত ধরে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ জন তীর্থযাত্রীর একটি দল নিয়ে কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। কৈলাস দর্শন ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের এক অদম্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেই তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। শেষ বার গত ২৫ অগস্ট রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর শেষ কথা হয়। সেই সময় তিনি নেপালের কিয়রং এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এরপরেই আচমকা প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ওই এলাকা এবং চিরকালের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সমস্ত যোগাযোগ।

স্ত্রীর এই হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন স্বামী শুভ্রাংশু রায়। ছোট ছোট দুই সন্তানকে বুকে আগলে রেখে দিনের পর দিন স্ত্রীর খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে লাগাতার যোগাযোগ রাখছেন, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আকুল আবেদন জানিয়ে পোস্টও করেছেন। কিন্তু কোনো দিক থেকেই মিলছে না কোনো সুসংবাদ। নেপালে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য বর্তমানে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শর্মিষ্ঠার মায়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নেপাল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহের ডিএনএ-র সঙ্গে এই নমুনা মিলিয়েই পরিচয় নিশ্চিত করার কঠিন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

যদিও এই ডিএনএ সংরক্ষণ ও পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত থাকায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বামী শুভ্রাংশু। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকায় পরিবার এখন চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। সকলের একটাই প্রার্থনা, কোনো অলৌকিক উপায়ে যেন সুস্থ শরীরে ফিরে আসেন শর্মিষ্ঠা।