আলিমুদ্দিনের একরোখা নীতিতে বড় বদল! পুরভোটের বৈতরণী পার হতে কি মাস্টারস্ট্রোক দিল সিপিএম?

রাজ্যে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের পুরনো কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল সিপিএম। এতদিন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে যেভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত বা প্রার্থীর নাম উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হতো, আসন্ন পুরভোটে সেই ধারা ভাঙতে চলেছে। সিপিএম সূত্রে জানা গেছে, এবার আর রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে কোনও কড়া নির্দেশিকা বা সিদ্ধান্ত নিচুতলার কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। জোট গঠন, আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরের সমস্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা নেতৃত্ব ও নিচুতলার কর্মীদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিশিষ্ট সদস্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিটি পুরসভা এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই রাজ্যস্তরে বসে এক ছাঁচে ফেলা কোনও নির্দেশিকা না তৈরি করে, স্থানীয় স্তরের সুনির্দিষ্ট সমীকরণ এবং মাটির বাস্তবের ওপর ভর করেই এগিয়ে যেতে চাইছে দল। তবে এই স্বাধীনতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু স্পষ্ট শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠনের প্রকৃত শক্তির কথা বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি, বামফ্রন্টের বাইরেও যে কোনও সমমনোভাবাপন্ন গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে হাত মেলানোর ক্ষেত্রে নিচুতলার কর্মীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং এনসিপিআই-এর সঙ্গে কোনও অবস্থাতেই কোনওরকম নির্বাচনী আঁতাত বা সমঝোতা করা যাবে না বলে রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য সময়সীমা মাথায় রেখেই দলের নিচুতলার কর্মীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দ্রুত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বামেদের সামনে মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে—প্রথমত, সর্বাধিক সংখ্যক পুরসভা ও ওয়ার্ডে জয়লাভ করা; দ্বিতীয়ত, সংগঠনের বুনিয়াদ শক্ত করে পুনর্গঠন করা এবং সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা; এবং তৃতীয়ত, একটি শক্তিশালী ও লড়াকু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা জোরালোভাবে তুলে ধরা। নির্বাচনী ময়দানে নামার আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ত্রুটি দূর করার ইস্যুকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা নামগুলি দ্রুত যাতে মূল ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলে সরাসরি পথে নামার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুধু বড় বড় রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং স্থানীয় জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকেই হাতিয়ার করতে বলা হয়েছে। পুর পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়া, বেহাল নাগরিক পরিকাঠামো, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থানের মতো জনমুখী ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে নিচুতলার কর্মীদের জোরদার জনসংযোগ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে প্রতিবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়েছে আলিমুদ্দিন