‘বড় মাছ দাও’ বলে দেড় কেজি ইলিশ নিয়ে চম্পট, রিক্সায় চড়িয়ে ফাঁকি দিলেন ৬০ বছরের মহিলা

ভরা বর্ষায় বাংলার বুকে ইলিশের স্বপ্ন সবার। কিন্তু সেই ইলিশ কিনতে এসে টাকা না দিয়ে হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল মধ্যমগ্রামের বাজারে। এত দিন ধরে ব্যবসা করছেন, এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি বলে জানালেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অভিজিৎ বিশ্বাস। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটার পর বুধবার তিনি দোকানই খোলেননি। ভেবেছিলেন হয়তো মহিলার কোনো ভুল হয়েছে, এসে টাকা দিয়ে যাবেন। কিন্তু কেউ আসেনি। বৃহস্পতিবার দোকান খুললেও মনটা আজও খারাপ তাঁর।
কী ঘটেছিল ওই দিন?
মঙ্গলবার মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি সংলগ্ন অমলেন্দু স্মৃতি ব্যবসায়ী সমিতির বাজারে প্রতিদিনের মতো মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, প্রায় ৬০ বছর বয়সি এক মহিলা সেখানে এসে বলেন— “সবচেয়ে বড়, ভালো ইলিশ দাও।”
পছন্দ থেকে পালানো— ধাপে ধাপে প্রতারণা
মহিলা দেড় কেজি ওজনের ইলিশ পছন্দ করেন। দাম পড়ে ২৫০০ টাকা কেজি হিসেবে ৩ হাজার ৭৮৮ টাকা।
তিনি রাউন্ড ফিগারে ৩৭০০ টাকা দিতে রাজি হন।
এরপর বলেন, “টাকা সঙ্গে নেই, সামনে দোকান আছে— সেখান থেকে নিয়ে দেব।”
ব্যবসায়ী অভিজিৎ তাঁর ভাইকে ওই মহিলার সঙ্গে টাকা আনতে পাঠান।
পথে মহিলা ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ৩০০ টাকা ক্যাশ নিয়ে নেন।
তারপর বাজারের উল্টো দিকে কাঠগোলার সামনে কাপড়ের দোকানের কথা বলে সেখানে টাকা দিতে বলেন।
মহিলা একটি রিক্সা ডেকে আনতে বলেন, তাতে চড়ে বসেন তিনি। সঙ্গে ওঠেন ব্যবসায়ীর ভাইও।
মাঝপথে এক দোকানের সামনে রিক্সা থামিয়ে মহিলা নামেন, বলে যান— “ওখান থেকে টাকা নিয়ে এসো।”
রিক্সাচালক ও ব্যবসায়ীর ভাই দোকানে যেতেই মহিলা আচমকা উধাও!
ক্ষতির পরিমাণ ও পরিস্থিতি
মাছের দাম ৩৭০০ টাকা + হাতে নেওয়া ৩০০ টাকা = মোট ৪০০০ টাকা ফাঁকি।
ঘটনার পর বুধবার দোকান খোলেননি অভিজিৎ। বৃহস্পতিবারও তাঁর মন খারাপ।
বাজারের সিসিটিভি ফুটেজে মহিলার মুখ স্পষ্ট দেখা গেলেও তাঁর ঠিকানা বা পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, “এটা চুরি নয়, ডাকাতি।” বাজার কমিটির সদস্যরা বলেছেন, “আর কখনও এভাবে কাউকে জিনিস দেবেন না।” তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
ব্যবসায়ী অভিজিৎ যা বললেন
“দেড় কিলো ওজনের ইলিশ ছিল। দাম হয় ৩৭৮৮ টাকা। উনি রাউন্ড ফিগার ৩৭০০ টাকা দিতে বলেন। আমি রাজি হই। টাকা নেই বলে ভাইকে পাঠাই। কিছুদূর গিয়ে ভাইয়ের কাছ থেকে ৩০০ টাকাও নিয়ে নেন। ২০০ মিটারের মধ্যেই হাওয়া! আজও কেউ আসেনি টাকা দিতে।”
শেষ কথা
বর্ষার ইলিশপ্রেমী বাঙালি যেমন মাছের স্বাদ নিতে ভালোবাসেন, তেমনই এই ঘটনা প্রমাণ করলো— সতর্ক না হলে ব্যবসায়ীদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে কোনো ‘ক্রেতা’ও। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে পরামর্শ— বিক্রির আগে টাকা নিশ্চিত করুন, নয়তো লোকসান অমোঘ।