চাকরিপ্রার্থীদের কপাল খুলছে! গোপনে নিয়োগের অভিযোগ, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে ফাঁস ১৫ জনের ভাগ্য!

ফের নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ! এবার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে নিয়ম ভেঙে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এবার সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
২০২৩ সালে মেখলিগঞ্জ ব্লকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, EWS (আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি) কোটায় নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি না থাকলেও ১৫ জনকে এই ক্যাটাগরিতে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। দুর্গা পূজার ঠিক আগে গভীর রাতে এই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিয়োগের ফল প্রকাশের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তালিকা ভাইরাল হয়, যাতে ১৫ জন প্রার্থীর নাম ছিল। অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর সেই ভাইরাল তালিকার নামগুলির সঙ্গেই নিয়োগপ্রাপ্তদের নামের মিল পাওয়া যায়। এতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় কারচুপির সন্দেহ হয়।
এই অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীরা প্রথমে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করেন। কিন্তু তা খারিজ হয়ে গেলে তাঁরা জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চে ফের আবেদন জানান। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী শুভঙ্কর দত্ত জানান, ডিভিশন বেঞ্চ কড়া নির্দেশ দিয়েছে। মোট ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর খাতা, মার্কশিট এবং অন্যান্য রিপোর্ট হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলাটি আবার সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী মোমিনুর রহমান জানান, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত পরীক্ষার্থীর স্কোর শিট দ্রুত সিঙ্গল বেঞ্চে জমা করা হবে। এখন দেখার, এই নির্দেশের পর তদন্তে কী নতুন তথ্য সামনে আসে এবং মেখলিগঞ্জের এই অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগের ভবিষ্যৎ কী হয়।