মা মনসা, যিনি মূলত সর্পদেবী হিসেবে পূজিত হন, তার আরাধনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি হিন্দু ধর্মে সন্তান কামনার দেবী এবং রোগ মুক্তির প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। পুরাণ অনুযায়ী, তিনি ঋষি কাশ্যপ ও কদ্রুর কন্যা এবং সর্পরাজের বোন। এই বছর আগস্ট মাসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে তার পূজা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট:
বাংলার লোককথায় চাঁদ সওদাগারের কাহিনিতে মনসা দেবীর আরাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, মনসা দেবীকে পূজা করার জন্য তিনি শিবের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। শিব জানিয়েছিলেন, যদি চাঁদ সওদাগর তাকে পূজা করেন, তবে তার ইচ্ছা পূরণ হবে। কিন্তু চাঁদ সওদাগর তা অস্বীকার করলে তার সব পুত্র সাপের কামড়ে মারা যায় এবং তার ব্যবসা ডুবে যায়।
পরে, চাঁদ সওদাগরের স্ত্রী স্বর্গে গিয়ে এই দুর্ভাগ্যের কারণ জানতে পারেন এবং ফিরে এসে শ্বশুরমশাইকে মনসা পূজা করার জন্য রাজি করান। এরপর চাঁদ সওদাগর মনসা পূজা শুরু করলে তার হারানো ঐশ্বর্য ফিরে আসে। এই ঘটনা থেকেই মনসা পূজার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়।
মনসা পূজার তিথি:
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মা মনসার পূজা দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে পালিত হবে:
প্রথম দিন: ২৯ জুলাই, ২০২৫ (বাংলা ১২ শ্রাবণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ), যা নাগ পঞ্চমীর দিন হিসেবেও পালিত হয়।
দ্বিতীয় দিন: ১৩ আগস্ট, ২০২৫ (বাংলা ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ)।
এই দুই দিনেই বিভিন্ন স্থানে মনসা পূজা, নাগ পঞ্চমী এবং অষ্টনাগ পূজা উপলক্ষে দেবীর আরাধনা করা হবে। কিছু অঞ্চলে আবার শ্রাবণ এবং আষাঢ় মাসের প্রতিটি পঞ্চমী তিথিতে এই পূজা করার রীতি প্রচলিত আছে। অনেক জায়গায় একটানা এক মাস ধরেও এই পূজা চলে।
পূজার পদ্ধতি:
এই পূজায় নদীর মাটি দিয়ে মনসা দেবীর মূর্তি তৈরি করা হয়। ভক্তরা একত্রিত হয়ে দেবীর আরাধনা করেন এবং তাকে দুধ-কলা উৎসর্গ করেন। কিছু কিছু স্থানে জীবন্ত সাপের পূজা করা হয়। এছাড়া, অনেকে শরীরে সূচ ফুঁড়ে বা শারীরিক কষ্ট সহ্য করে ব্রত পালন করেন। যাদের সন্তান নেই, তারা এই পূজায় অংশ নিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।





