বাল্যবিবাহ রুখতে অভিনব পদক্ষেপ, প্যান্ডেল ও ক্যাটারিং দেবে না পশ্চিম বর্ধমানের ডেকোরেটর সমিতি

শুধুই ব্যবসা নয়, সমাজের প্রতিও নিজেদের দায়িত্ব অনুভব করে এবার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডেকোরেটর সমন্বয় সমিতি। এখন থেকে কোনো বাল্যবিবাহের খবর পেলেই সেখানে ডেকোরেটরের কোনো সামগ্রী ভাড়া দেওয়া হবে না – প্যান্ডেল থেকে শুরু করে রান্নার বাসনপত্র, কিছুই নয়। শুধু তাই নয়, আলোকসজ্জা বা ফুলের সজ্জার মতো সহযোগী ব্যবসায়ীদেরও এই ধরনের অনুষ্ঠানে অর্ডার না নিতে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি, বাল্যবিবাহের চেষ্টা সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসনকেও অবহিত করা হবে।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার আসানসোল রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠিত পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডেকোরেটর সমন্বয় সমিতির ১৩তম সম্মেলন থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে পশ্চিম বর্ধমানের মোট ৫৯১ জন ডেকোরেটর মালিকের পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও শতাধিক ডেকোরেটর মালিক উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নতুন শপথ
পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডেকোরেটর সমন্বয় সমিতির যুগ্ম সম্পাদক উৎপল রায় চৌধুরী ইটিভি ভারতকে জানান, “আমরা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। পূজাপার্বণ বা অন্যান্য উৎসবে যখন অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সক্রিয় থাকে, তখন ডেকোরেটরের কর্মীরাও নিরলস কাজ করেন। আমাদের কোনো ছুটি থাকে না।”

তবে এই সম্মেলন থেকে যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে উৎপল রায় চৌধুরী বিশদে বলেন, “বাল্যবিবাহ সমাজের একটি বড় অপরাধ। যেখানেই আমরা বাল্যবিবাহের খবর পাব, সেখানেই আমরা ডেকোরেটরের কোনো সামগ্রী ভাড়া দেব না। প্যান্ডেল, রান্নার জিনিসপত্র তো দেওয়াই হবে না, এমনকি সাজানোর অন্যান্য জিনিস যেমন ফুল বা আলোর ক্ষেত্রেও আমরা সেই ব্যবসায়ীদের সচেতন করব, যাতে তাঁরাও এই বিষয়ে সক্রিয় হন।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুধুই সামগ্রী ভাড়া না দেওয়া নয়, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকেও জানাব যে এখানে বাল্যবিবাহের চেষ্টা চলছে, যাতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”

কীভাবে কার্যকর হবে এই নিয়ম?
উৎপল রায় চৌধুরীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নিয়ম প্রয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোনো বিয়ের প্যান্ডেলের বুকিং এলেই আমরা সবসময় পাত্র এবং পাত্রীর তথ্য জানার চেষ্টা করি। সম্পূর্ণ তথ্য জানার পরেই আমরা ডেকোরেটরের সামগ্রী ভাড়া দিই। কারণ বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, “যদি পাত্র বা পাত্রীর বিবরণে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানতে পারি, তাহলে আমরা সেখানে আমাদের ডেকোরেটরের সামগ্রী ভাড়া দেব না। পাশাপাশি আমরা প্রশাসনকেও বিষয়টি অবগত করব।”

এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। পশ্চিম বর্ধমানের এই উদ্যোগ অন্যান্য জেলায় এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সংগঠনগুলিতেও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy