নবান্নের গোপন তথ্য ফাঁস, শুভেন্দুর দাবি, পেছনে রয়েছেন শতাধিক WBCS ও ২০ জন IAS অফিসার!

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি এবং আগাম পদক্ষেপের খবর ফাঁস করে বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কীভাবে তিনি নবান্নের অন্দরের এই সব গোপন তথ্য হাতে পান, তা নিয়ে জল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্য উন্মোচন করে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বোমা ফাটালেন। তাঁর দাবি, রাজ্য প্রশাসনেরই উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা তাঁকে এই তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন।

শতাধিক WBCS ও ২০ জন IAS অফিসারই তথ্যের উৎস?

শুভেন্দু অধিকারীর চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের শতাধিক WBCS এবং প্রায় ২০ জন IAS অফিসার তাঁকে নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে থাকেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা জনসমক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রকাশ্যে এই অফিসারদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “নবান্নের একাধিক ব্লু প্রিন্ট ঘুরপথে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হাত ধরেই আমার কাছে এসে পৌঁছায়।”

এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে। যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অভিযোগ সাধারণত রাজনৈতিক তরজার অংশ, সেখানে প্রশাসনের ভিতরের ব্যক্তিদের তথ্যের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

শুভেন্দুর বার্তা: নির্বাচন কমিশনকে মমতার বুড়ো আঙুল?

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী BLO (বুথ লেভেল অফিসার) পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “BLO-দের পরিবর্তন করার জন্য বলেছেন, কিন্তু তা পারবেন না। যা করছেন কমিশন, রাজ্যের ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারবে না। তালিকা তৈরি করতে না পারলে ভোটও হবে না। মমতার প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।” এর পরেই তিনি নাম না করে সেইসব প্রশাসনিক কর্তাদের ধন্যবাদ জানান, যারা তাঁকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন। তাঁর মতে, এই কর্তাব্যক্তিরা প্রকারান্তরে রাজ্যেরই উপকার করছেন।

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: তদন্তের দাবি

শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “তাহলে শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করে তাঁর থেকে বিষয়টি জেনে নিতে হবে। যদি কোনো অফিসার এভাবে সরকারি তথ্য পাচার করে বা সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করে, তাহলে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। তদন্ত হওয়া জরুরি।” তৃণমূলের এই দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে।

প্রশাসন ও রাজনীতির পুরনো খেলা?

যদিও এই ঘটনা বাংলায় নতুন নয়। বাম জমানাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গিয়েছিল, যখন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশাসনের ভিতরের তথ্য ব্যবহার করে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক তছরুপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক রিপোর্ট বা গোপন ফাইল নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর একের পর এক অভিযোগের পেছনে যে নবান্নেরই ‘গুপ্তচর’ রয়েছে, তাঁর আজকের দাবি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। এই ঘটনা প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্যেকার সম্পর্ক এবং তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy