২০২৫ সালের লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আজ হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত এক কন্যা সুরক্ষা যাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই জনসভা থেকে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, “এই সরকার শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর দুর্নীতির সরকার। রাজ্যের মা-বোনেদের সুরক্ষা নিয়ে যিনি বড় বড় কথা বলেন, তাঁর নিজের আমলেই নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং মহিলারা সুরক্ষিত নন।
শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, সভা থেকে বহুল আলোচিত নেতা কেষ্ট মণ্ডলকেও (অনুব্রত মণ্ডল) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের নেতাদের আসল রূপ মানুষ দেখতে পাচ্ছে। কেষ্ট মণ্ডলের মতো মানুষরা রাজ্যের ক্ষমতায় বসে কী করেছে, তা বাংলার মানুষ জানে। এদের দিন শেষ হতে চলেছে।” তাঁর এই মন্তব্য কেষ্ট মণ্ডলকে ঘিরে চলা বিভিন্ন বিতর্কের রেশ টেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী আরও বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে পদ্ম ফুটবেই এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পতন অবশ্যম্ভাবী। তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বদলের সময় এসেছে। এই সরকার সরলে তবেই রাজ্যে শান্তি ফিরবে, মা-বোনেরা সুরক্ষিত থাকবেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর আজকের এই সভা এবং তাঁর কড়া বার্তা নিঃসন্দেহে তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলবে। সামনেই লোকসভা নির্বাচন, তার আগে শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমা বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে তৃণমূল এই আক্রমণের কী জবাব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





