বিষণ্ণতা এবং মানসিক অস্থিরতা আজকাল আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নীরব ঘাতক শুধু মনকেই নয়, ধীরে ধীরে শরীরের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হলেও, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ খাবার যোগ করে আমরা মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে পারি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে এবং মানসিক শক্তি বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
১. ভিটামিন ডি: মেজাজের প্রফুল্লতা ও মানসিক শক্তির উৎস
মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। এটি মেজাজ খিটখিটে হতে বাধা দেয় এবং অকারণ হতাশা দূর করতে সাহায্য করে। যদি কোনো কারণ ছাড়াই হতাশা জেঁকে ধরে, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকতে পারে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই, কারণ এই অভাব সহজেই পুষিয়ে নেওয়া যায়। দুধ, কুসুমসহ ডিম, এবং সূর্যালোক – এই কয়েকটিই ভিটামিন ডি-এর উৎকৃষ্ট উৎস। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১৫-২০ মিনিট সূর্যালোকে থাকার চেষ্টা করুন, যা প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি সরবরাহ করবে।
২. ভিটামিন বি-১২: অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে ‘ভালো লাগার’ হরমোন সক্রিয় করে
অবসাদ, ক্লান্তি এবং মানসিক অবসাদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ভিটামিন বি১২-এর অভাব। প্রতিটি মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি১২ প্রয়োজন। পনির, কম চর্বিযুক্ত দই এবং দুধ – এসব ভিটামিন বি১২-এর চাহিদা পূরণ করতে পারে। ভিটামিন বি১২ আমাদের শরীরে ‘সেরোটোনিন’ ও ‘ডোপামিন’-এর মতো ভালো লাগার হরমোনকে উদ্দীপ্ত করে, ফলে মন ফুরফুরে ও প্রফুল্ল থাকে।
৩. ম্যাগনেসিয়াম: প্রাকৃতিক ব্যাথানাশক ও মানসিক প্রশান্তি
মানসিক যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় ম্যাগনেসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একে প্রাকৃতিক ব্যাথানাশক বললেও ভুল হবে না। এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে। ডার্ক চকলেট, পালং শাক, এবং বিভিন্ন বাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।
৪. ভিটামিন সি: উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার প্রাকৃতিক প্রতিষেধক
ভিটামিন সি-কে বলা যেতে পারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ওষুধ। কোনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়লে এক গ্লাস কমলার জুস বা লেবু পানি পান করে দেখুন, মাথার ভার অনেকটাই কমে আসবে এবং মন সতেজ ও শক্তিশালী অনুভব করবে। ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।
সুতরাং, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও অত্যন্ত জরুরি। এই ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবারগুলো প্রতিদিনের পাতে যোগ করে আমরা সুস্থ ও প্রফুল্ল জীবনযাপন করতে পারি।