FTA-চুক্তিতে সই করতে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী মোদী, ভারত-ব্রিটেনের সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করতে দু’দিনের সরকারি সফরে লন্ডনে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার লন্ডনে তার পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিমান বন্দরে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় ঢোল বাজিয়ে এবং ‘মোদী-মোদী’, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী তার টুইটার হ্যান্ডেলে জানান, এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে।
গত তিন বছর ধরে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে এই FTA নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা অবশেষে গত মে মাসে চূড়ান্ত রূপ পায়। এই চুক্তির ফলে ৯৯% ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে ব্রিটেন শুল্ক প্রত্যাহার করবে এবং ৯০% ব্রিটিশ পণ্যের শুল্ক হ্রাস করবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে ব্রিটেনের জন্য একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। তার মতে, এই চুক্তির ফলে পোশাক, জুতো এবং খাদ্যপণ্যের মতো দৈনন্দিন সামগ্রীর দাম কমবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে। স্টারমার জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যেখানে ভারতীয় সংস্থাগুলি ব্রিটেনে তাদের ব্যবসা বাড়াতে পারবে এবং ব্রিটিশ সংস্থাগুলিও ভারতে নতুন সুযোগ পাবে।
আজ, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন ‘চেকার্স’-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। সেখানে তারা ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। দুই নেতা একটি নতুন ‘ব্যাপক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive and Strategic Partnership) চুক্তিতেও স্বাক্ষর করবেন। এই চুক্তি প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, জলবায়ু, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগের মতে, এই চুক্তির পর ভারতে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর থেকে গড় ১৫% কর কমে মাত্র ৩% হবে। হুইস্কির মতো পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ১৫০% থেকে কমে প্রথমে ৭৫% এবং ১০ বছরের মধ্যে ৪০% এ নামিয়ে আনা হবে, যা ব্রিটিশ মদ প্রস্তুতকারকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। দুই দেশের মোট বাণিজ্য ৪০% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত আয় নিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরাই উপকৃত হবেন।