OMG! সিবিআই অফিসার সেজে হুমকি, ১১ লাখ টাকা খুইয়ে আত্মহত্যা বিদ্যুৎ কর্মীর

ডিজিটাল দুনিয়ার অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা প্রতারকদের বিষাক্ত ছোবলে প্রাণ হারালেন কর্ণাটকের এক বিদ্যুৎ কর্মী। রামনগর জেলার চান্নাপাটনায় ৪২ বছর বয়সী কুমার নামের ওই ব্যক্তি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়ে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা খুইয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনা আবারও সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা এবং তার সামাজিক প্রভাবকে সামনে আনল।

বেঙ্গালুরুর এইচএসআর লেআউটে অবস্থিত বেসকমে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন কুমার। সম্প্রতি তাঁর কাছে আসে এক অপ্রত্যাশিত ফোন কল। নিজেকে ‘বিক্রম গোস্বামী’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করে সে সিবিআই অফিসার। কুমারকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করা হবে।

এই ভয়ঙ্কর হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কুমার। গ্রেফতারি এড়াতে সেই ‘সিবিআই অফিসারের’ নির্দেশ মতো তিনি একের পর এক বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে শুরু করেন। এভাবেই তাঁর কষ্টার্জিত ১১ লক্ষ টাকা প্রতারকদের হাতে চলে যায়।

তবে, টাকা দেওয়ার পরেও হয়রানি থামেনি। কুমারের সুইসাইড নোট থেকে জানা গেছে, প্রতারকরা ক্রমাগত তাঁকে ফোন করে আরও টাকা দাবি করছিল এবং হুমকি দিচ্ছিল। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নেন।

গাছে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটে প্রতারণার চিত্র
অবশেষে অসহায় কুমার চান্নাপাটনা তালুকের কেলাগেরে গ্রামে একটি গাছের ডালে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে এই পুরো প্রতারণার কাহিনি বিস্তারিতভাবে লেখা আছে। তাঁর শেষ চিঠিতে কুমারের যন্ত্রণাময় পরিস্থিতির এক স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

পুলিশের তদন্ত শুরু: সাইবার চক্রের সন্ধানে অভিযান
খবর পেয়ে চান্নাপাটনার এমকে দোড্ডি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক মামলা দায়ের করে। এই স্পর্শকাতর মামলাটির গুরুত্ব বুঝে পরে তদন্তের দায়িত্ব সাইবার ক্রাইম থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কুমারের পরিবারকে সব রকম সহযোগিতা করছে এবং এই সাইবার জালিয়াতির পুরো চক্রটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনাটি সাইবার সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে আনল। সামান্য একটি ফোন কলের সূত্র ধরে কিভাবে একজন ব্যক্তি সর্বস্বান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন হারালেন, তা এক চরম বার্তা বহন করে। ডিজিটাল যুগে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সন্দেহজনক ফোন বা ই-মেলের বিষয়ে পুলিশকে জানানো অত্যাবশ্যক।