শারজায় পণের বলি মা ও শিশুকন্যা! শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নরকীয় নির্যাতনের অভিযোগ

পণের জন্য নির্মম নির্যাতন, এমনকি বাবার সমান শ্বশুরের অশ্লীল আচরণ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে নিজের দেড় বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ভারতীয় তরুণী, ভিপঞ্জিকা মানি (৩২)। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শারজার আল নাহদা এলাকায়, গত ৭ জুলাই। কেরলের বাসিন্দা এই তরুণীর শেষ ফেসবুক পোস্ট এবং হাতে লেখা চিঠি থেকে উঠে এসেছে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নারকীয় অত্যাচারের এক ভয়াবহ বিবরণ।

অভিযোগ: শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শ্বশুরের অশ্লীল আচরণ
পুলিশ সূত্রে খবর, ৩২ বছর বয়সী ভিপঞ্জিকা কেরলের বাসিন্দা ছিলেন এবং গত কিছু বছর ধরে স্বামী নিধীশ, শ্বশুর ও শাশুড়ির সঙ্গে শারজায় থাকতেন। গত ৭ জুলাই তিনি নিজের দেড় বছরের মেয়ে বৈভবীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ঘটনার পরই ভিপঞ্জিকার মা বৃন্দা দেবী কেরলের কোল্লামের কুন্দারা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ভিপঞ্জিকার স্বামী নিধীশ, ননদ নীতু এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মায়ের অভিযোগ, পণের জন্য তাঁর মেয়েকে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এসেছে ভিপঞ্জিকার শেষ চিঠি থেকে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই বলত যে সে নাকি শুধু নিজের জন্য নয়, তাঁর বাবা অর্থাৎ আমার শ্বশুরের জন্যও আমাকে বিয়ে করেছে। আমাকে নিধীশ বলত, ‘তুমি তো আমার বাবারও।’ আমাকে মারধর করত, চুল কেটে দিয়েছে। আমি আর পারছি না। ওদের ছেড়ে দিও না।” এই অভিযোগগুলি শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এক গুরুতর ইঙ্গিত বহন করছে।

“ওরা বলত, তুই ফর্সা, আমরা কালো”: মায়ের মর্মস্পর্শী অভিযোগ
মৃতার মা বৃন্দা দেবী মর্মস্পর্শী অভিযোগ এনে বলেছেন, “আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। ওরা বলত, তুই ফর্সা, আমরা কালো। তাই চুল কেটে ওকে কুৎসিত বানানো হয়েছিল। পণের টাকা যথেষ্ট হয়নি বলে বারবার হেনস্থা করা হত। মেয়ের সঙ্গে এমন অমানবিক অত্যাচার চলেছে, আমরা আন্দাজও করতে পারিনি।”

জানা গেছে, ভিপঞ্জিকা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে থাকার অভিযোগও তুলেছিলেন এবং তখনই তাঁকে ডিভোর্সের নোটিসও পাঠানো হয়।

কেরল পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনা আবারও পণের লোভে নারকীয় নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় চিত্র তুলে ধরল, যা সমাজের গভীরে বাসা বাঁধা এই জঘন্য প্রথার বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভিপঞ্জিকা ও তাঁর শিশুকন্যার এই মর্মান্তিক পরিণতি সমাজে পণের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।