স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় রুই মাছ: ওষুধ নয়, পাতে রাখুন এই উপকারী খাদ্য!

কলকাতা, ৭ জুন ২০২৫ – রুই মাছ কেবল বাঙালির প্রিয় পদ নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও এক অমূল্য সম্পদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিচিত মাছটি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধের পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ওষুধপত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে, রুই মাছকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবতেই পারেন।
রুই মাছের অন্যতম প্রধান গুণ হলো এর কম ক্যালোরি। ফলে যারা ওজন কমাতে চাইছেন বা অতিরিক্ত মেদ নিয়ে চিন্তিত, তারা নিশ্চিন্তে নিয়মিত রুই মাছ খেতে পারেন।
এই মাছের তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল, যেমন LDL ও VLDL, কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী HDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে হৃদযন্ত্রে চর্বি জমার প্রবণতা কমে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে রুই মাছের ভূমিকা
আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল অনুযায়ী, রুই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। যাদের ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিকাল ইনফর্মেশনের তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছের ওমেগা-৩ রক্তের অণুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে দেয় না। এর ফলে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। স্ট্রোক প্রতিরোধে রুই মাছের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুষ্টিবিদরা রুই মাছকে উচ্চ মানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হিসেবেও গণ্য করেন।
রুই মাছে কী কী পুষ্টিগুণ থাকে?
রুই মাছ শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও ভরপুর। এতে রয়েছে:
ভিটামিন এ, ডি, ই: যা চোখ, হাড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য।
ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন ও অন্যান্য খনিজ: শরীরের সার্বিক কার্যকারিতার জন্য এগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পুষ্টিবিদরা আরও জানান, রুই মাছে কোলিন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ থাকে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত এই পুষ্টি উপাদান ডিএনএ সংশ্লেষে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্র, ফ্যাটের বিপাক ক্রিয়া ও পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কতটুকু রুই মাছ খাওয়া উচিত?
যদিও রুই মাছের উপকারিতা অনেক, পুষ্টিবিদরা ভারসাম্যপূর্ণ খাওয়ার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, দৈনিক রুই মাছের একটি বড় টুকরাই একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সুতরাং, সুস্থ থাকতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রুই মাছকে অগ্রাধিকার দিন। সুষম খাবারের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।