ঘুমের ভঙ্গি: আপনার ঘাড়, পিঠের ব্যথা এবং বদহজমের কারণ নয় তো?

ঘাড় ও পিঠের ব্যথায় নিত্যসঙ্গী? বদহজমে শরীর বরবাদ? মনমেজাজ সবসময় তিরিক্কি? কেন হচ্ছে, ভেবে কূল পাচ্ছেন না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার শোওয়ার অভ্যাসই পাল্টে দিতে পারে সব কিছু। ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা।
অনেকেই আছেন, সময় পেলেই ঘুমোতে ভালোবাসেন। যেমন ইন্দিরা। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে এখন ক্যারিয়ার গড়ার পথে। মডেলিং, অভিনয় তার প্যাশন। খাওয়া-দাওয়া, শরীরচর্চা সবই নিয়ম মেনে করেন। তবে, তার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ঘুম। ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস নয়।
কিন্তু ইন্দিরা জানেন না, ঘুমোতে ভালোবাসলেও শোওয়ারও নাকি নিয়ম আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেমন-তেমনভাবে শুলে চলবে না। শরীর সুস্থ রাখতে শুতে হবে নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে। নাহলে ঘাড়, পিঠের দফারফা হতে পারে। ইন্দিরার মতো অনেকেই আছেন যারা ঘুমের এই নিয়ম মানতে চান না। আর সেখানেই তারা অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ। শরীর সুন্দর রাখার জন্য শরীরচর্চা করলেও, ভুল ঘুমানোর ভঙ্গিতে শরীরের বারোটা বাজাচ্ছেন তারা।
চিকিৎসকদের মতে, ভুল ঘুমানোর ভঙ্গির কারণে মেরুদণ্ডে চাপ পড়তে পারে, যা থেকে ঘাড় ও পিঠের ব্যথা শুরু হয়। এছাড়াও, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমালে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, যা বদহজম এবং অ্যাসিডিটির কারণ। এমনকি, ঘুমের অভাবে বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে মানসিক চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে।
তাহলে সঠিক ঘুমানোর ভঙ্গি কী?
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত চিত হয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন, কারণ এতে মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং ঘাড়ের উপর চাপ কম পড়ে। যারা পাশ ফিরে ঘুমান, তাদের উচিত দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ ব্যবহার করা, যাতে মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকে। উপুড় হয়ে ঘুমানো সাধারণত এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।