দ্রুত গর্ভধারণের পরিকল্পনা? জেনে নিন জরুরি কিছু টিপস!

প্রতিটি দম্পতিই চান সন্তানের সুখ পেতে, কিন্তু চাইলেই সবসময় তা সম্ভব নাও হতে পারে। সন্তান জন্মদান একটি বড় দায়িত্ব, তাই বাবা-মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কঠিন। তবে যারা এই সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর দেরি করতে চান না। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চেষ্টা করার সময়ে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।

দীর্ঘ অপেক্ষা অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়ে শরীরের ওপর এবং গর্ভধারণে আরও সময় লেগে যায়। কিন্তু অনেক দম্পতিই এই সময়ে অজান্তেই কিছু ভুল করে ফেলেন, যা তাদের এই নতুন যাত্রাকে পিছিয়ে দেয়। কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই পথচলা আরও মসৃণ হয়ে উঠবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী:

গর্ভধারণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:
জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বন্ধ: যদি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করে থাকেন, তবে মনে রাখবেন ওষুধ বন্ধ করার পরও শরীরের স্বাভাবিক ঋতুচক্রে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত, মাস তিনেক সময় লাগতে পারে। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন; পরিবারে নতুন সদস্য আনার কথা ভাবলে, তার বেশ কিছু মাস আগে থেকেই এই ধরনের ওষুধ বন্ধ করা প্রয়োজন।

গর্ভধারণের সঠিক সময়: মাসের কোন দিনগুলোতে যৌনমিলন আপনার মা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বাড়াতে পারে, তা বোঝা জরুরি। ঋতুস্রাবের প্রথম দিন থেকে ১৩-১৪ দিন পর আপনার শরীর সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে। তাই ঋতুস্রাবের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে যদি চেষ্টা করেন, তাহলে সুফল পাবেন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, শুক্রাণু শরীরে প্রবেশ করার পর পাঁচ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে, কিন্তু ডিম্বাণু থাকে মোটে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। তাই একদম ১২ থেকে ১৪ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে তার কিছুদিন আগে থেকেই যৌন সঙ্গমের চেষ্টা করুন।

সঙ্গমের ধরণ: কীভাবে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছেন, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সঙ্গম নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন? এই সময়টি সে সব না করাই ভালো। কীভাবে সঙ্গমে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, তার পরামর্শ নিতে পারেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে।

লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার নয়: সঙ্গমের সুবিধার জন্য যদি কোনো রকম লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করেন, এই সময়ে তা না করাই ভালো। কারণ, কিছু লুব্রিক্যান্ট শুক্রাণুর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

ধূমপান ত্যাগ করুন: তামাক সন্তানধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধূমপান বন্ধ করে দিন। এতে ভবিষ্যতেও আপনার সুস্থ সন্তান ধারণে সুবিধা হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা শরীরে নানা রকম জটিলতা তৈরি করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই জরুরি। খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার দিকে নজর দিন। ওজন অতিরিক্ত বেশি থাকলে তা গর্ভপাতের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়।