আর বারবার অস্ত্রোপচারের ঝামেলা নেই! শরীরের ভেতরে বসানোর জন্য এল কাগজের তৈরি বিস্ময় ব্যাটারি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দুনিয়ায় এক অভূতপূর্ব এবং যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিজ্ঞানীরা। শরীরের ভেতরে বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্র বা মেডিক্যাল ডিভাইস সচল রাখতে এবার তৈরি হয়েছে অভিনব ‘কাগজের ব্যাটারি’। ওষুধের মতো মুখে দিয়ে গিলে নিলেই শরীরের অন্দরে পৌঁছে নিজের কাজ করবে এই ব্যাটারি। কাজ শেষ হয়ে গেলে তা আপনা থেকেই গলে মিশে যাবে শরীরের ভেতর। এর ফলে অস্থায়ী মেডিক্যাল ডিভাইসগুলি চালু রাখতে আর বারবার আলাদা করে অস্ত্রোপচার বা জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না রোগীদের।
সোমবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা পত্রিকা ‘নেচার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ এই নতুন কাগজের ব্যাটারির খুঁটিনাটি প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন পর্যন্ত শরীরের অভ্যন্তরে কোনো যন্ত্র সচল রাখতে যে ব্যাটারিগুলি ব্যবহার করা হতো, সেগুলি আকারে বেশ বড় এবং ক্ষতিকর তরল চুইয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে শক্তপোক্তভাবে সিল করা থাকত। সেই সমস্ত ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি দিতেই সম্পূর্ণ নিরাপদ এই কাগজের ব্যাটারি তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ব্যাটারির অ্যানোড বা ঋণাত্মক প্রান্ত তৈরি হয়েছে ম্যাগনেসিয়াম শঙ্কর ধাতু দিয়ে এবং ক্যাথোড বা ধনাত্মক প্রান্তটি তৈরি হয়েছে মলিবডেনাম ট্রাই-অক্সাইড ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বন দিয়ে। মাঝখানে রয়েছে জৈব-বিয়োজ্য ইলেক্ট্রোলাইট। পাকস্থলীর অ্যাসিড যাতে এটিকে দ্রুত নষ্ট করতে না পারে, তার জন্য এর উপরিভাগে মৌমাছির মোম এবং বিশেষ উদ্ভিজ্জ মোমের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাটারির আয়ুকাল নিয়ন্ত্রণ করে।
আপাতত শূকরের শরীরের ওপর সফল পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত ছোট আকারের এই ব্যাটারিটি প্রায় ১.৭৭ থেকে ১.৮৪ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এবং একটানা তিন দিন পর্যন্ত শরীরের ভেতরের ডিভাইসকে সচল রাখতে পেরেছে। শূকরের শরীরে সফল প্রয়োগের পর আগামী দিনে মানবশরীরেও এর ব্যবহারের কথা ভাবছেন গবেষকরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভিনব আবিষ্কার ভবিষ্যতে রোগীদের জীবন অনেকটাই সহজ করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।