সামান্য মাথার আঘাতও হতে পারে মারাত্মক! জেনে নিন যে ৫ গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে

আমরা অনেকেই মাথায় ছোটখাট আঘাতকে তেমন গুরুত্ব দিই না। অথচ, এই সামান্য মাথার আঘাতই যে পরবর্তীতে মস্তিষ্কে নানা গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। অবাক করা মনে হলেও এটি সত্যি! মাথায় আঘাত লাগার পরই দেখা দিতে পারে নানা ধরনের সমস্যা, বিশেষ করে মস্তিষ্কের ভেতরে আঘাত লাগলে সমস্যা আরও বাড়ে। তাই মাথার আঘাতকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মস্তিষ্কে আঘাত লাগার কারণে বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বা স্মৃতিভ্রমের মতো লক্ষণও দেখা যেতে পারে।

এজন্য এসব বিষয়ের প্রতি সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জেনে নিন মাথায় আঘাত লাগলে যে ৫ ধরনের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে:

১. হেমারেজ (রক্তপাত)
মাথায় আঘাত লাগলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা যায় তা হলো হেমারেজ বা রক্তপাত। মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তপাত হলে তাকে সাবঅ্যারকনয়েড হেমারেজ বলে। আর মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তপাতের ঘটনাকে বলা হয় ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমারেজ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

২. গুরুতর ক্ষত ও চিহ্ন
মাথায় খুব জোরে আঘাত লাগার কারণে মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষত ও চিহ্ন তৈরি হতে পারে। এর ফলে হাত-পা নাড়াতে না পারা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চরম সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৩. ফ্র্যাকচার (হাড় ভাঙা)
মাথার হাড় বা খুলিতে কোনো গুরুতর আঘাত দেখা দিলে ফ্র্যাকচার বা ফাটল ধরতে পারে। আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথার খুলি ফ্র্যাকচার হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৪. হেমাটোমা (রক্ত জমাট বাঁধা)
মাথার আঘাতে মস্তিষ্কে হেমাটোমা হতে পারে। আঘাতের কারণে মাথায় চাপ বাড়ে এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়, যাকে হেমাটোমা বলে। এর থেকেই নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

৫. ডিফিউস অ্যাক্সোনাল ইনজুরি
‘ডিফিউস অ্যাক্সোনাল ইনজুরি’ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে আঘাতের অভিঘাত সরাসরি মস্তিষ্কের কোষে পৌঁছে যায় এবং কোষগুলোতে সমস্যা তৈরি করে। এর ফলে ব্যক্তি দ্রুত তার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারাতে থাকেন। অনেক সময় মস্তিষ্কের কোষ ফুলে ওঠে, যা আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। এ ধরনের আঘাতের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।