অসহ্য মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি! ওষুধ ছাড়াই মিলবে আরাম, রইল সহজ উপায়

এক অসহনীয় মাথার যন্ত্রণা যা ভুক্তভোগীরাই কেবল অনুভব করতে পারেন। মাথার অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা, বমি এবং হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া সাধারণত মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথার তীব্রতায় জ্বর পর্যন্ত এসে যায়। খিদে কমে যাওয়া এবং যন্ত্রণা থেকে অবসাদও এই ব্যথার অনুষঙ্গ হতে পারে।
তবে ওষুধ ছাড়াও কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে এই ভয়ঙ্কর ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এমনকি মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হলেও হাতের কাছে ওষুধ না থাকলে এই সহজ পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে সহজেই আরাম পাওয়া যেতে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে যা করবেন:
ঠান্ডা তোয়ালের ব্যবহার: মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি ভিজে তোয়ালে দশ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রাখুন। তারপর সেই ঠান্ডা তোয়ালেটি আপনার কপাল এবং চোখের উপর রেখে দিন। ধীরে ধীরে মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা কমতে শুরু করবে। ঠান্ডার স্পর্শ রক্তনালীকে সংকুচিত করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
চন্দনের প্রলেপ: চন্দন কাঠের সাথে সামান্য জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। চন্দন প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ায় এটি ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এই মিশ্রণের একটি পুরু প্রলেপ আপনার কপালে লাগান। এরপর ঘরের আলো নিভিয়ে বিশ্রাম নিন। কিছুক্ষণ পর ব্যথায় আরাম পাবেন।
অন্ধকারে বিশ্রাম: যদি মাইগ্রেনের ব্যথা অল্প থাকে, তাহলে চেষ্টা করুন একটি অন্ধকার ঘরে কিছুক্ষণ ঘুমানোর। আলোর প্রভাবে মাইগ্রেনের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। তাই আলো নিভিয়ে শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমতে সাহায্য করবে।
চোখের উপর চাপ কমান: যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের সারা বছরই অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করা, টিভি দেখা বা চোখের উপর বেশি চাপ পড়ে এমন কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। দীর্ঘক্ষণ ধরে এই ধরনের কাজ করলে মাইগ্রেনের আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
কম্পিউটারে কাজের সময় বিরতি: যারা কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, তাদের উচিত মাঝে মাঝেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়া। প্রতি ঘন্টায় অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য উঠুন এবং চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। এছাড়াও, এমন চশমা ব্যবহার করুন যা চোখের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে (যেমন অ্যান্টি-গ্লেয়ার চশমা)।
এই সহজ উপায়গুলো অবলম্বন করে মাইগ্রেনের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে যদি মাইগ্রেনের সমস্যা খুব ঘন ঘন হয় এবং তীব্রতা বেশি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।