পুদিনা পাতার ব্যাবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। কারন পুদিনা পাতার উপকারিতা এখন কম বেশি সবাই জানে। তাই দিনদিন কদর বাড়ছে পুদিনা পাতার। বোরহানি তৈরি বলুন কিংবা সুস্বাদু বিরিয়ানি, পুদিনার দরকার পড়বেই। পুদিনার চা, পুদিনার শরবত সবকিছুই উপকারী। পুদিনার চাটনি আপনার রুচি বাড়াতে সাহায্য করবে। সবজির বাজার থেকে এটি আপনি সহেজই কিনতে পাবেন। দামও হাতের নাগালে।তাহলে আসুন যেনে নেই পুদিনা পাতার এমন কিছু অসাধারণ উপকারিতা যা আপনি আগে জানতেন না।
১) রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালা কমাতে পুদিনা পাতার রস ও অ্যালোভেরার রস এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন সানবার্নের জ্বালা গায়েব।
২) আশ্চর্যজনক হলেও পুদিনা পাতার গুণ খুব সত্যি। বহু বিজ্ঞানীদের দাবি, পুদিনা পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। পুদিনা পাতার পেরিলেল অ্যালকোহল যা ফাইটো নিউট্রিয়েন্টসের একটি উপাদান দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে।
৩) ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে তাজা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস লাগান। সম্ভব হলে সারারাত রাখুন। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। মাসখানেক এইভাবে লাগালে ব্রণের দাগ উধাও হয়ে যাবে।
৪) চুলে উকুন হলে পুদিনার শেকড়ের রস লাগাতে পারেন। উকুনের মোক্ষম ওষুধ হল পুদিনার পাতা বা শেকড়ের রস। গোটা মাথায় চুলের গোড়ায় এই রস ভাল করে লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।
৫) সর্দি হলে নাক বুজে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মারাত্মক কষ্ট পান অনেকেই। সেই সময় যদি পুদিনা পাতার রস খান, তাহলে এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবেন নিমেষে। যাঁরা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পড়লে পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে সেই জলেরর ভাপ নিতে পারেন। ভাপ নিতে অসুবিধা হলে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৬) গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। মসৃণও হয়।
৭) পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা পেটের যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যাঁরা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের নানান সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাঁরা খাবার কাওয়ার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরের মধ্যেই।
৮) গরমকালে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখাতে পুদিনার রস খুব ভাল। গোসলের আগে জলের মধ্যে কিছু পুদিনা পাতা ফেলে রাখুন। সেই জল দিয়ে স্নান করলে শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে।
৯) এই পাতার রস ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার জল তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি জলে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার জল মিশিয়ে স্নান করুন। গরমকালে শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া-জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেতে এটা ট্রাই করতে পারেন। কেননা পুদিনাতে রয়েছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।
১০) তাৎক্ষণিক যে কোনও ব্যথা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতার রস খুব উপকারী। চামড়ার ভেতরে গিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভে পৌঁছায় এই রস। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।
১১) পুদিনা পাতায় প্রচুর ভিটামিন এ আছে। এই পাতা দেখতে ছোট হলেও গুণ কিন্তু অনেক! বিষাক্ত জন্তুর বিষ নষ্ট করার গুণ আছে পুদিনায়।
১২) পুদিনা পাতা পুড়িয়ে যদি সেই ছাই দিয়ে দাঁত মাজা যায় তাহলে দাঁত শক্ত হয়। যাদের পায়ে গোদ আছে তারা পুদিনা পাতা সেদ্ধ করে বেটে নিয়ে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খেলে উপকৃত হবেন।
১৩) পুদিনা পাতা যদি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে শরীরের জমে থাকা ক্লেদ ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। ৪-৫টা পুদিনা পাতা কচলে নিয়ে শুকিয়ে রোগীকে খাওয়ালে রোগীর র্মূচ্ছা রোগ সারে।
১৪) সর্দি কাশিতেও পুদিনা প্রাকৃতিক পথ্য। চায়ের সঙ্গে পুদিনা খেলে ঠান্ডা লাগা কমে। গলার সংক্রমণ সেরে যায়। বাচ্চাদের মধু ও লবণ মিশিয়ে পুদিনা পাতা বাটা ২ মাস খাওয়ালে কৃমি সারে।
১৫) পুদিনা হজম করায় তাড়াতাড়ি। ক্ষুধা বাড়াবার ক্ষমতাও আছে এর। তাই ক্ষুধা না পেলে বা খাওয়ায় অরুচি হলে পুদিনা পাতার শরবত প্রতিদিন খেলে ধীরে ধীরে ক্ষুধা বাড়বে, অরুচিও দূর হবে। পুদিনা পাতা ও লেবুর শরবত খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।