১০০০ কোটি টাকার মদ কেলেঙ্কারি, মুম্বই থেকে ধৃত ব্যবসায়ী, ফাঁস হল জগন রেড্ডির আমলের ‘ভুয়ো কোম্পানি’ জাল!

১০০০ কোটি টাকার মদ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বড় সাফল্য পেল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। শুক্রবার মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী অনিল চোখরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানের বেলাপুর আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট ওয়ারেন্টে তাঁকে বিজয়ওয়াড়ায় আনা হচ্ছে। আজ, শনিবার তাঁকে এসিবি (ACB) আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহন রেড্ডির শাসনকালে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিটি সংগঠিত হয়েছিল।

সিটের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকারের আধিকারিকদের কাছে তহবিল স্থানান্তর এবং নগদ ঘুষ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েক ডজন ভুয়ো কোম্পানি তৈরি ও পরিচালনায় অনিল চোখরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। অভিযোগ, মদের সরবরাহ চুক্তিতে সবচেয়ে বেশি বরাত পাওয়া সংস্থাগুলি এই ঘুষের অর্থ দিয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওয়াইএসআরসিপি গ্যাংয়ের অর্থ পাচারের জন্য অনিল চোখরা বৃহৎ পরিসরে ভুয়ো কোম্পানি খুলেছিলেন। এমনকী, তিনটি ডিস্টিলারির মাধ্যমে ৭৭ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

সিটের তদন্তে প্রকাশ, জগন মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি (YSRCP) সরকারের আমলে আদান ডিস্টিলারি, এসপিওয়াই অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং লীলা ডিস্টিলারিজ—এই তিনটি কোম্পানিকে মদের বড় সরবরাহের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই কোম্পানিগুলি রাজ কেসিরেডি এবং মুপ্পিদি অবিনাশ রেড্ডির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত। তারা সম্মিলিতভাবে ৭৭.৫৫ কোটি টাকা মুম্বই-ভিত্তিক শেল কোম্পানিগুলিতে স্থানান্তরিত করে, যার মধ্যে ছিল অলভিক মাল্টিভেঞ্চারস, কৃপতি এন্টারপ্রাইজেস এবং নাইসনা মাল্টিভেঞ্চারস। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানই অনিল চোখরা দ্বারা পরিচালিত হত বলে অভিযোগ।

পরবর্তীকালে এই অর্থ ৩২টি অতিরিক্ত শেল কোম্পানিতে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখান থেকে বিভিন্ন উপায়ে ওয়াইএসআরসিপি গ্যাংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সিট জানিয়েছে, অডিট চলাকালীন ধরা পড়া এড়াতে এবং অপরাধ গোপন করতে একাধিক স্তরে এই লেনদেন করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মোট ৩৫টি ভুয়ো কোম্পানি অনিল চোখরার নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা ডামি পরিচালক এবং ভুয়ো নাম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক সোনার মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৩ দিন ধরে মুম্বইয়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের পরই সিট চোখরাকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে দু’বার গ্রেফতার করেছিল। সিটের সন্দেহ, চুরি করা তহবিলের একটি বড় অংশ বিদেশি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy