স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে (পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা) পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন কোচবিহারের তৃণমূল ব্লক সভাপতি সজল সরকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে পেশ করা হলে সজল সরকারের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই খুনের ঘটনায় সজল সরকারের সরাসরি যোগ রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনা স্বপন কামিল্যার কাছে ছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে।
১. ফুটেজ ও টাওয়ার লোকেশনে যোগ: সরকারপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের দিন বিডিও-র গাড়ির চালক রাজু ঢালি তাঁর মোবাইলে ঘটনার ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ফোন ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ফোনের ফুটেজে তৃণমূল নেতা সজল সরকারের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে বলে খবর। এছাড়াও, সজল সরকারের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনও নিউটাউন দেখাচ্ছে বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।
২. খুনের পদ্ধতি: নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটের দোতলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে এনে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক ব্যক্তি বাঁশ জাতীয় কিছু দিয়ে মাথায় পিছনে আঘাত করলে, ব্যবসায়ী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং মারা যান বলে অনুমান।
৩. দেহ ফেলার কৌশল: খুনের পর একটি নীল বাতি লাগানো গাড়ি করে ব্যবসায়ীর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রাগাছিতে খালের ধারে ফেলে দেওয়া হয়।
৪. যোগাযোগের সূত্র: আগে গ্রেফতার হওয়া রাজগঞ্জের বিডিও-র গাড়ির চালক রাজু ঢালি এবং বিডিও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার তুফান থাপাকে জেরা করেই প্রথম সজল সরকারের নাম উঠে আসে। সূত্র মারফত জানা গেছে, ধৃত সজল সরকারের সঙ্গে খুনে নাম জড়ানো রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। যদিও বিডিও বর্মণ দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
ফরেন্সিক দল নিউটাউনের যে ফ্ল্যাটে এই কাণ্ড ঘটেছিল, সেটি চিহ্নিত করে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।