ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলায় সাপে কামড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রতি বছর এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
বিশেষত সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা, সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, রায়দিঘি এবং কুলপি—এই ছয়টি ব্লকে সাপের উপদ্রব বেশি থাকায় এই অঞ্চলগুলিতে স্বাস্থ্য দফতর বিশেষ নজর দিয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডা: জয়ন্ত সুকুলের নেতৃত্বে দিনভর আলোচনাসভা ও প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: সোনালি দাস-সহ অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও এই প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্লক হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন। সাপে কামড়ানো রোগীকে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত এন্টিভেনাম (Antivenom) প্রয়োগ করা উচিত এবং সর্বোপরি কীভাবে মৃত্যুহার কমানো যায়—এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত হাতে-কলমে আলোচনা করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসায় আরও গতি আনবে। ইতিমধ্যে জেলার সমস্ত ব্লক হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্টিভেনাম সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জনসাধারণকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ সাপে কামড়ানোর পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই জীবন রক্ষার একমাত্র উপায়।