জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর সংলগ্ন নওগাম থানায় (Nowgam PS) শুক্রবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (Jammu Kashmir Police) প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বললেও, এর সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে সন্ত্রাস দমন অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল বিস্ফোরক-সম্ভারের।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের বিশেষ তদন্ত দফতর (SIA)-এর এক কর্মী, ফরেনসিক সায়েন্সেস ল্যাবরেটরি (FSL)-এর তিন বিশেষজ্ঞ, দু’জন ক্রাইম-সিন ফটোগ্রাফার, দু’জন রাজস্ব আধিকারিক এবং তদন্তকারী দলের সঙ্গে যুক্ত এক দর্জি। এই ঘটনার জেরে তদন্তকারী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল?
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ প্রধান নলিন প্রভাত জানিয়েছেন, ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলির নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করতেই এই বিপর্যয় ঘটে। ফরেনসিক টিম যখন রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কাজ করছিল, তখনই আচমকা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৯ জন প্রাণ হারান।
ফরিদাবাদের বিস্ফোরক এল কীভাবে?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত দু’দিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকগুলি টাটা ৪০৭ মিনি ট্রাকে করে সড়কপথে নওগাম থানায় আনা হয়েছিল। প্রতিটি কনটেনার ছিল বিশেষ এয়ার-টাইট সিলযুক্ত, যাতে কোনো রাসায়নিক লিকেজ বা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা না থাকে। নওগামে সেগুলিকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হচ্ছিল, যাতে জম্মুর FSL-এ পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায়। ঠিক সেই সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ এবং নওগাম যোগসূত্র
দিল্লির লালকেল্লায় গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় যে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে ব্যবহৃত রাসায়নিকও ফরিদাবাদে মজুত বিস্ফোরক থেকেই এসেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ফরিদাবাদের এই বিস্ফোরক উদ্ধারের তদন্ত শুরু হয়েছিল মূলত ১৯ অক্টোবর নওগাম থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে, যেখানে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর নামে হামলার হুমকি দেওয়া পোস্টার পাওয়া গিয়েছিল।
দুর্ঘটনা নাকি জঙ্গিদের হাত?
প্রাথমিকভাবে জঙ্গি হামলার জল্পনা উঠলেও, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলীন প্রভাত সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নভেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখে ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। সেগুলি নওগাম থানার একটি খোলা জায়গায় রাখা ছিল। শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ এগুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত ফেটে যায়।” পুলিশকর্তা আরও বলেন, এই ঘটনার পর আর কোনো অনুমান করা অপ্রয়োজনীয়।