গত সোমবার সন্ধ্যা ৬.৫২ মিনিটে ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়ঙ্কর গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১০ এবং আহত ২২ জন। ঘটনার তদন্তভার নেওয়া NIA-এর তদন্তে প্রথমে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে বাংলার এক ডাক্তারের যোগসূত্র উঠে আসায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু শনিবার গভীর রাতে সেই আতঙ্ক কাটল।
উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা থানার কোনাল গ্রামের বাসিন্দা, আল ফালাহ য়ুনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার জানিসার আলমকে মুক্তি দিয়েছে NIA।
মুক্তি পাওয়ার নেপথ্যে কী?
শুক্রবার গভীর রাতে জানিসারকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে এক আত্মীয়ার বিয়েতে যোগ দিতে এলে আটক করেছিল NIA। জানা গিয়েছিল, মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডালখোলা থেকে ইসলামপুর এবং পরে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে শনিবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গোয়েন্দা আধিকারিকরা তাঁকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে মুক্তি দিয়েছেন এবং এই বিস্ফোরণ কাণ্ডে তাঁর কোনো হাত নেই বলেও নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি সত্যি প্রমাণিত!
জানা যায়, জানিসার আলম লুধিয়ানাতে থাকতেন, তবে তাঁর আদি বাড়ি ডালখোলা থানার কোনাল গ্রামে। আত্মীয়ার বিয়েতে তিনি কয়েকদিন আগে গ্রামে এসেছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তের কাকা আবুল কাশেম আগেই দাবি করেছিলেন, তাঁরা জানিসারকে একজন ভালো ছাত্র হিসেবেই জানেন এবং তাঁর কোনো গোপন কার্যকলাপের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না।
জানিসারকে আটক করার পর কোনাল গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। গ্রামবাসীরা মন্তব্য করেছিলেন, যে ছেলেকে তাঁরা ছোটবেলা থেকে ভদ্র, সভ্য এবং ভালো ছাত্র হিসেবে দেখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রমাণের পর NIA ও পরিবারের সেই দাবিকেই সত্য প্রমাণিত করে জানিসারকে নির্দোষ সাব্যস্ত করল।