পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কয়েকশো কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া (ফেন্সিং) দেওয়ার দাবিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের বক্তব্য হলফনামা আকারে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।
কেন প্রয়োজন ফেন্সিং?
মামলাকারী ডঃ সুব্রত সাহার বক্তব্য, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই দীর্ঘ সীমান্তের অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান অবাধে চলছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে লাগাতার মাদক, গরু, সোনা, জাল নোট পাচার চলছে।
রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ:
কেন্দ্রের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতকে জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না। এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজে রাজ্যের তৎপরতা না থাকায় সেখানে ফেন্সিংয়ের কাজ আটকে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দে সম্মত থাকলেও রাজ্যের গড়িমসির কারণেই এই বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করা যাচ্ছে না।
সেনা আধিকারিক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করা মামলাকারী ডঃ সুব্রত সাহা এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাধ্য হয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকে রাজ্যের একটি গুরুতর সমস্যা বলে সরব। বিজেপি এ বিষয়ে রাজ্যের ঘাড়ে দোষ চাপালেও, তৃণমূলের অভিযোগ— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদাসীনতার কারণেই সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ বাড়ছে। এই আবহে, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফেন্সিংয়ের কাজ আটকে থাকা নিয়ে হাইকোর্টের এই মামলা রাজ্যের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।