বিহারেও টিমটিম করে জ্বলছে বামেদের সলতে! ২০২০ সালের জোয়ার উধাও, কংগ্রেসের থেকেও খারাপ ফল CPI(ML)-L-এর

বাংলায় ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও বর্তমানে রাজ্যে বামেরা শূন্য। কিন্তু পড়শি রাজ্য বিহারে বামেরা একসময় নিজেদের শক্তি ফিরিয়ে এনেছিল। শেষ বিধানসভা নির্বাচনেও তারা কংগ্রেসকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল এবং বিহারের মানচিত্রে বামেরা একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যেন সবকিছু ওলট-পালট করে দিল। বলা যায়, বিহারে বামেদের ওপর ‘নজর’ লেগে গেছে।

বিহার নির্বাচনের গণনায় ছবিটা স্পষ্ট—২০২০ সালের বামেদের জোয়ার এবার সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে। প্রধান বাম শরিক সিপিআই(এমএল)- লিবারেশন [CPI(ML)-L] ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও শুক্রবার সন্ধে ৬টা পর্যন্ত মাত্র দু’টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে।

বাকি বাম শিবিরের অবস্থাও করুণ। সিপিএম কেবল একটি আসনে এগিয়ে থাকতে পেরেছে। ২০২০ সালের তুলনায় এই ছবি বামেদের কাছে বড় ধাক্কা। তখন মহাগঠবন্ধনের শরিক হিসেবে তারা ২৯টি আসনে লড়ে ১৬টি দখল করেছিল। এর মধ্যে সিপিআই(এমএল)- এল একাই ১৯টিতে লড়ে জিতেছিল ১২টি, যার সাফল্যের হার ছিল ৬৩ শতাংশ। সিপিআই ও সিপিআই(এম) চারটি ও ছ’টি কেন্দ্রে লড়ে দু’টি করে আসন জিতেছিল।

এ বছর মাত্র একটি বাড়তি আসন নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল সিপিআই(এমএল)-এল। দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আগে জানিয়েছিলেন, জোটে বিকাশশীল ইনসান পার্টি (মুকেশ সাহনি) এবং ইন্ডিয়ান ইনক্লুসিভ পার্টিকে জায়গা দেওয়ায় আসন ভাগে অতিরিক্ত সুযোগ আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের বামেদের সাফল্য নিয়ে তখন থেকেই ভিন্ন বিশ্লেষণ ছিল। কেউ বলেছিলেন, আরজেডি-র সংগঠনের কাঁধে চড়েই সাফল্য পেয়েছিল বাম দলগুলি। আবার কারও মতে, মাঠে দীর্ঘদিনের কাজের ফল পেয়েছিল এই দলগুলি। তবে চলতি নির্বাচনের প্রবণতায় স্পষ্ট যে বামেদের আগের উত্থান অনেকটাই নির্ভর করেছিল জোটের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর।

এ বার সেই ছবি নেই। সন্ধে ৬ টা পর্যন্ত আরজেডি ১৪৩ আসনের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে এবং কংগ্রেস ৬১টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫টিতে এগিয়ে। অন্যদিকে, এনডিএ ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। মোট কথা, বিহারে বামেদের সাফল্যের যে গল্প পাঁচ বছর আগে লেখা হয়েছিল, এ বার তা বিলীন হয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy