বাবা-মায়ের অমত ছিল, জেদের জোরেই সোনা জয়! ওয়েট লস করতে গিয়ে পাওয়ার লিফটিং তারকা আসানসোলের অনামিকা

পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল, ৩ নম্বর মহিশীলা কলোনির বাসিন্দা যুবতী অনামিকা মুখোপাধ্যায় এক অনন্য সাফল্যের কাহিনি লিখলেন। প্রথমে পরিবার চায়নি, বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও নিজের অদম্য মনোবলের জোরে তিনি আজ ফেডারেশন কাপ পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করেছেন। হিমাচল প্রদেশে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ৫২ কেজির ক্যাটাগরিতে তাঁর এই সোনা জয় পশ্চিম বর্ধমান জেলা তথা বাংলার মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।

সম্প্রতি প্রতিযোগিতা শেষে অনামিকা গত সপ্তাহে আসানসোলে ফিরে আসেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা সুকুমার মুখোপাধ্যায় একজন নিরাপত্তারক্ষী এবং মা জলি মুখোপাধ্যায় একটি ব্যাঙ্কে কর্মরত। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অনামিকার সাফল্যের চাবিকাঠি হলো তাঁর ধৈর্য (Patience) এবং একাগ্রতা (Dedication)

অনামিকা জানান, এই খেলা বেছে নেওয়ার শুরুতে তাঁর বাবা-মায়ের সমর্থন ছিল না ঠিকই, তবে ধীরে ধীরে মায়ের পূর্ণ সহযোগিতা তিনি পান। কয়েক বছর আগে তিনি নিছকই ওজন কমাতে এলাকার একটি জিমে গিয়েছিলেন। সেখানেই প্রশিক্ষক তাঁকে পাওয়ার লিফটিং খেলার বিষয়ে জানান। সেই সময় থেকেই তাঁর ওয়েট তোলার প্র্যাক্টিস শুরু হয়।

পাওয়ার লিফটিংয়ের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়, যা তাঁর বাবা-মায়ের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব ছিল। তবে, কেবল অনামিকার অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও কঠোর শারীরিক কসরত তাঁকে সাফল্যের পথে চালিত করেছে। আসানসোলে এই খেলার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি ঝাড়খণ্ডের বোকারো থেকে বিশিষ্ট কোচ দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নেন।

তাঁর কোচের হাত ধরেই ফেডারেশন কাপে এই সাফল্য পেয়েছেন অনামিকা। ওই প্রতিযোগিতায় উচ্চ স্তরে তিন থেকে চারজন মহিলা প্রতিযোগী ছিলেন। এই সাফল্যের ফলস্বরূপ তিনি এশিয়া কাপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী দিনে বাংলা তথা ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জেতা তাঁর মূল লক্ষ্য। আসানসোলের গৌরব আন্তর্জাতিক স্তরে বয়ে আনতে বদ্ধপরিকর যুবতী অনামিকা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy