বাঁকুড়ার বিকনার ২৬ বছর বয়সী উমাশঙ্কর রানার জীবন একটি সংগ্রামের জীবন্ত উদাহরণ। তাঁর দিনলিপি শুরু হয় সামান্য ফেনা ভাত খেয়ে, তারপর প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে জিমে যাওয়া, এবং জিম থেকে ফিরে রাতে আবার মনোযোগ দিয়ে ডোকরার কাজ করা। একটি ডোকরা শিল্পদ্রব্য যেমন আগুনের ভাঁটিতে তপ্ত হওয়ার পরই উজ্জ্বলতা লাভ করে, ঠিক তেমনিভাবে নিজের শরীরকে কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে তৈরি করছেন এই যুবক।
অভাবের সংসার সামলে স্টেজে উঠে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য—সকলকে দেখিয়ে দেওয়া যে, কিছু না থাকার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা সম্ভব এবং পূরণ করা সম্ভব। আজকালকার বডি বিল্ডিং-এর বাজারে যেখানে সাপ্লিমেন্ট, হরমোনাল ইঞ্জেকশন, পার্সোনাল ট্রেনার এবং চিকিৎসকের মতামত বাধ্যতামূলক, উমাশঙ্করের পক্ষে সেসব কিছুই জোগাড় করা সম্ভব ছিল না।
তাঁর জীবনধারণের অবলম্বন—প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা রোদে, বৃষ্টিতে এবং আগুনের সামনে ডোকরার কাজ করা। এরপরেও তিনি শুধুমাত্র ফেনা ভাত খেয়ে শরীর তৈরি করেছেন। অর্থের অভাবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্টেজে তিনি সফলতাও পেয়েছেন। ৬৫ কেজি বিভাগে বাঁকুড়ায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন উমাশঙ্কর। বর্তমানে তিনি পরবর্তী বড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর এই লড়াই আধুনিক বডি বিল্ডিং-এর জাঁকজমককে ছাপিয়ে এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে।