দিল্লির লালকেল্লার ১ নং গেটের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার মূল অভিযুক্ত ৪ জন সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গত ১০ নভেম্বরের এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammad) একটি টেরর মডিউল।
এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল রেজিস্টার এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টার—উভয় সংস্থার পক্ষ থেকেই চার চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। ডাক্তাররা হলেন: মুজফফর আহমেদ, আবদেল আহমেদ রাথের, মুজামিল শাকিল, এবং শাহিন সাইদ।
এনএমসি (NMC) এই বাতিল প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছে, “উল্লেখিত ডাক্তাররা আর কোনোভাবেই দেশের কোথাও রোগী দেখতে পারবেন না। এছাড়াও, ভারতবর্ষের কোথাও মেডিক্যাল কোনো অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিতে পারবেন না।” এনএমসি-এর এই নির্দেশের ফলে এই সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসকরা ভারতের কোথাও আর প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাবেন না।
বিস্ফোরকে ভয়ঙ্কর রাসায়নিক TATP
লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর পাঁচ দিন কেটে গেলেও তদন্ত জোরকদমে এগোচ্ছে। ফরিদাবাদের ‘ডক্টরস মডিউল’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এবার বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক নিয়ে সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা গেল, গত ১০ নভেম্বর যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তাতে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (Triacetone Triperoxide), সহজ ভাষায় TATP নামে একটি বিপজ্জনক রাসায়নিকের নমুনা পাওয়া গিয়েছে।
TATP একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাথমিক বিস্ফোরক এবং ভয়ঙ্কর রকমের উদ্বায়ী রাসায়নিক, যা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সঙ্গে বিক্রিয়ায় প্রবল বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এটি এমন ধরনের ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক (IED) যা সন্ত্রাসবাদীরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকে। সামান্য তাপের পরিবর্তন, ঘষা লাগা এমনকী, দুলুনিতেও ফেটে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এই রাসায়নিক। অন্যান্য বাণিজ্যিক বিস্ফোরকের বিপরীতে, এই ধরনের IED-তে নাইট্রোজেন থাকে না। ফলে ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতিতে তল্লাশি চালালেও এই বিস্ফোরক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানাচ্ছে, হতে পারে সিগন্যালে অনিচ্ছাকৃত ভাবেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আবার, এই ধরনের বোমা মাত্র ৫-১০ মিনিটের মধ্যে প্রস্তুত করতে পারায়, বিস্ফোরণের আগে উমর নবি তা তৈরি করে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।