বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বিরোধী শিবির চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়ালেও, আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদবের নিজস্ব কেন্দ্র রাঘোপুরে অবশেষে ‘খেলা ঘোরার’ ইঙ্গিত মিলেছে। একসময় প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছিলেন তেজস্বী, যা নিয়ে তাঁর নিজের গড়েই তিনি হারের মুখ দেখবেন কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছিল।
তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চূড়ান্ত কৌতূহল এবং উত্তেজনার মাঝে রাঘোপুরে নিজের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করলেন আরজেডি-র যুবরাজ। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ৩০ রাউন্ডের মধ্যে ২৫ রাউন্ডের গণনা শেষে তেজস্বী যাদব প্রায় ১৫,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন।
ভোট গণনার শুরু থেকেই তেজস্বী এবং তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী সতীশ কুমারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। রাঘোপুরে সতীশ কুমার বিজেপি-র সেই প্রার্থী যিনি ২০১০ সালে তেজস্বীর মা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে এই কেন্দ্র থেকেই পরাজিত করেছিলেন। তবে ২০১৫ এবং ২০২০ সালে তেজস্বী এই সতীশ কুমারকেই পরাজিত করে আসনটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। এবার সতীশ কুমার ফের বাজিমাত করবেন কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হলেও, তেজস্বী সেই চ্যালেঞ্জ দারুণভাবে মোকাবিলা করলেন।
যদিও গোটা বিহারের সামগ্রিক চিত্র বিরোধী মহাজোটের জন্য হতাশার। সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এনডিএ জোট দুশোরও বেশি আসনে এগিয়ে গিয়েছে। গেরুয়া ও নীতীশ ঝড়ে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোট ধরাশায়ী। আরজেডি প্রধান বিরোধী দলের তকমাটুকু ধরে রাখতে পারে কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেজস্বীর ব্যক্তিগত জয় আরজেডি-র জন্য সামান্য হলেও স্বস্তির কারণ।